প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট, ২০২২ ০২:৩৫

গোবিন্দগঞ্জে মাছের সাথে শত্রুতা

ষ্টাফ রিপোর্টার
গোবিন্দগঞ্জে মাছের সাথে শত্রুতা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (গত ১৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আলীগাঁও গ্রামের মৎস্যজীবী শ্রী সুকমল সরকার ভক্তের পুকুরে এমন ঘটনা ঘটে। এতে তার আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। এ ঘটনায় হিমাংশু মালী, বাবু মিয়া, ত্রৈলক্ষ ও নির্মলকে আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা ৪৬/৪২৭ দায়ের হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আলীগাঁও গ্রামের কর্ণধার সরকারের ছেলে শ্রী সুকমল সরকার ভক্ত বংশ-পরম্পরায় মৎস্যজীবী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই এলাকার সরকারি ৩ দশমিক ৬০ একরের কোচপুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরটি নেওয়ার পর থেকেই একটি চক্র তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে কে বা কারা পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে। এতে ওই পুকুরের রেণু ও কার্পজাতীয় প্রায় ৪০০ মণ মাছ মরে ভেসে ওঠে। যার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন লোকজনের ও এনজিওর কাছ থেকে ধার দেনা করে তিনি পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছ বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে তার। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষে তার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুকমল চন্দ্র সরকার ভক্ত জানান, পুকুরটি লীজ নেয়ার পর থেকেই এলাকার কিছু কুচক্রী মানুষ তাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে আসছিল। তার সন্দেহ ওরাই এ কাজটি করেছে। পুকুরে শফিকুল ও মজিদ নামের দুই ব্যক্তি রাতে ডিউটি করেন। তারপরেও কিভাবে এ ঘটনা ঘটল তা বোধগম্য নয়। তিনি অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সুকমল ওরফে ভক্ত জানান, আমার ভাইকে ২০১৩ সালে দুর্গাপূজার দশমীর দিন অপহরণ করে হত্যা পূর্বক লাশ এই পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখে। দুই দিন পর লাশ পুকুরে ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা নং ২১/৪৪৪ রুজু হলে আসামী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এর পর ২০১৯ সালে আমার কাছ থেকে ০১৮৩২৮৫২৯৬৬ নম্বর থেকে মোবাইলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। যার গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২২ মে ২০১৯ সালের জিডি নম্বর ৯৭৩। এর আগে আমার মাছ ধরার জাল গোপন করে ৪ হাজার টাকা নেওয়ার পর জাল বাহির করে দেয়। 
তিনি আরও জানান, ত্রৈলক্ষ, হিমাংশ, বাবু ও নির্মলরা বিভিন্ন সময়ে পুকুরটি নিজেদের আওতায় নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এক পর্যায়ে বিগত দিনে তারা জাল জালিয়াতির কাগজ সৃষ্টি করে পুকুরটি হাতানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
পুকুরটি সম্পর্কে জানা যায়, ৩ একর ৬০ শতকের কোচ পুকুরটি কামদিয়া ও শাখাহার ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত। এর ৮৯ শতাংশ জলকর সরকারি লীজ এবং অবশিষ্ট ২ একর ৭১ শতাংশ আলীগাঁও হিন্দু পাড়ার শশ্মান কমিটির থেকে লীজ নিতে হয়। উপজেলা লীজ কমিটির থেকে লীজ ও স্থানীয় শশ্মান কমিটির কাছে থেকে নেওয়ার পরই কেবল পুকুরটি একজন ব্যক্তি মাছ চাষ করতে পারে। 
প্রসঙ্গত, অনেক অনেক বছর আগে যমুনার কড়াল গ্রাসে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার তেকানি চুকাইনগরের জন্মস্থান ভিটেমাটি হারানো ভক্তরা নতুন করে বাসা বাধে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নে আলগাঁও গ্রামে। স্থানীয় আলীগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সুকমল সরকার ভক্ত। বিগত ৬ মার্চ ২০১৯ সালে উপজেলার ১১০টি জলমহাল ইজারা টেন্ডার দাখিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের পর ৪ অক্টোবর ২০১৯ সালে এ উপজেলার জলমহাল ইজারা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ইনডিপেন্ডেট টেলিভিশনের তালাশ-এ। সেখানে এই ভক্ত’র বক্তব্যও একটি পক্ষের বিপক্ষে যায়।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

 

উপরে