সমাবেশ মঞ্চে খালেদা জিয়ার জন্য ‘সংরক্ষিত চেয়ার’
আর মাত্র কয়েকঘণ্টা পরই খুলানায় শুরু হতে যাচ্ছে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রাত থেকে নগরীর ডাকবাংলো চত্বরে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন দলীয় ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সড়ক ও নৌপথে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় হেঁটে, মাইক্রোবাসে কিংবা ট্রাকে আসছেন তারা।
এদিকে সমাবেশ মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাখা হয়েছে একটি প্রতীকী চেয়ার। তিনি সমাবেশে যোগ না দিতে পারলে তার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে চেয়ারটি।
খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে গিয়েছিলেন। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে তিন বাসায় থাকছেন।
বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন খুলনা। শুক্রবার থেকেই খুলনামুখী বাস-লঞ্চসহ অন্য গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ খেয়াঘাটও। সমাবেশকেন্দ্রিক হাজার হাজার মানুষ থাকলেও খুলনার অন্যান্য এলাকার সড়ক এখন অনেকটাই ফাঁকা। অজানা আতঙ্কে রয়েছেন নগরবাসী, প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হননি।
সমাবেশকে ঘিরে পিকচার প্যালেস, ডাকবাংলো, থানা মোড়, ক্লে রোড, মহেন্দ্র দাসের মোড়, স্টেশন রোডসহ আশপাশের এলাকার প্রায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নাশকতা এড়াতে আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে গঠিত উপ কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, সমাবেশ স্থলে আসার পথে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে জনতার ঢল নেমেছে।
খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, বুধবার খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির জরুরি সভায় পরিবহন দুদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির কর্মকর্তা, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও মালিকদের উপস্থিতিতে সভায় বলা হয়, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, মহেন্দ্র, ইজিবাইক ও বিটিআরসির গাড়িগুলো চলাচল করছে। তাই এসব যান বন্ধের দাবিতে ২১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুদিন মালিক সমিতির সব গাড়ি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের দাবি, বেতন বৃদ্ধিসহ ১০ দফা দাবিতে তারা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বান করেছেন। এর সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
