নীলফামারী কারাগারে নির্যাতন ব্লেড দিয়ে হাজতির আত্মহত্যার চেষ্টা
নীলফামারী জেলা কারাগারে অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় কারারক্ষী ও মেট দের অমানুষিক শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বাথরুমে থাকা ডিটারজেন্ট পাউডার খেয়ে ও ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় হাজতি দুলাল হোসেন। এই ঘটনার পর কারা অভন্তরের নানা অনিয়ম ও ভয়ংকর তথ্য উঠে আসে।
কারাগার সুত্রে জানায়, গত ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় হাজতি দুলাল হোসেনের শরীরে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর সুস্থ না হলে তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
৭ জুলাই শুক্রবার দুপুরে নীলফামারী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ জুলফিকার আলী নবাব বলেন, তীব্র কোমরের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নীলফামারীর পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের মিলের পাড় এলাকার মাছ ব্যবসায়ী এনামু হক এর পুত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামি দুলাল হোসেন (৩২) প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরও সুস্থ না হওয়ায়, আমরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করি এবং কারারক্ষীরা তাকে দ্রুত নিয়ে যায় কিছুক্ষণ পরেই রাত সাড়ে এগারোটায় রক্তাক্ত অবস্থায় আবার তাকে নিয়ে আসে হাসপাতালে।
এ বিষয়ে চিকিৎসাধীন হাজতি দুলাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি রক্ষীদের সামনে কথা বলতে ইতন্ত বোধ করেন।
জলঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী হারুন আলী জানান, হাজতি বা কয়েদির সাথে ১৫ দিন পর পর স্বাক্ষাতের নিদের্শনা থাকলেও অর্থের বিনিময়ে দিনে একাধিকবার দেখা করা যায়। কারাগারের ভিতরে হাজতি বা কয়েদিদের খাবার খেতে টাকা লাগার কথা না কিন্তু ভিতরে ক্যান্টিন ব্যবসার নামে কারাবন্দীদের সাথে করা হয় প্রতারনা। ভিতরে টাকার ব্যবহার না হলেও মেরিজ সিগারেট বিনিময়ের মাধ্যম।
কারাগার থেকে জামিন পাওয়া মোঃ মশিউর রহমান বলেন, আমদানি রুমের মেঝেতে শুতে হলে রাত প্রতি এক প্যাকেটে মেরিজ সিগারেট মেটকে দিতে হয়। ভিতরে বাথরুম ব্যবহারের জন্য দিতে হয় এক প্যাকেটে মেরিজ সিগারেট। টাকা দিলে আত্মীস্বজনের সাথে মোবাইলে কথা বলারও সুযোগ করে দেন কারারক্ষীরা।
নীলফামারী সদরের একাধিক মামলার জেল খাটা আসামী মোঃ আব্দুল বাশার জানান, জেল খানার ভিতরে মেট দের চাহিদা পূরণ করতে না পারলে তাকে মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করলে গামছা দিয়ে চোখ বেধেঁ শরীরের কাপড় খুলে কোমরের নিম্নঅংশে পেটানো হয়। এটাকে বলা হয় বালিশ থেরাপি। ভিতরে যে না একবার থেকেছে সে ছাড়া কেউ বলতে পারবে না এসব নির্যাতনের কথা।
এ বিষয়ে নীলফামারী কারাগারের জেলার আবুল নুর মোহাম্মদ রেজা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত তবে হাজতির অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করলেও হাসপাতালের সামনে মুখে থাকা ব্লেড দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
এই বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, এসব বিষয়ে অনেক কিছু শুনেছি এবং কারাগারে যা কিছু অনিয়ম হচ্ছে তার দেখার দায়িত্ব হলো কারা কর্তৃপক্ষের, তবে জেলায় কারাগারের যে কমিটি রয়েছে সেখানে বিষয়টি উপস্থাপন করবো।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
