বগুড়ায় দুইদিনের পিঠা উৎসব শুরু
-19-01-2024.jpg)
ঝিনুক, রংধনু, খাজা, পুলি, গোলাপ, বিবি খানা, চিতই, পাটি সাপটা, হৃদয় হরণ, মুগ পাকন, ঝাল কুশলী, চিংড়ি, তাল, মনকারা, বকুল পিঠা, ভাপাসহ হরেক নাম হলেও সবই পিঠা। চিরায়ত বাংলার গ্রামীণ উৎসবকে ধারণ করে নান্দনিকতার মধ্যে দিয়ে দুইদিনের পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পিঠা উৎসবের প্রথম দিন নারী ও শিশুদের ছিলো উপচেপড়া ভিড়। শিশুরা পিঠা উৎসবে এসে নতুন নতুন পিঠার নাম জেনে আনন্দ প্রকাশ করে।
বগুড়ার শিশু সংগঠন ভোর হলো ও লিটল থিয়েটার এর আয়োজনে বগুড়া শহরের কথাসাহিত্যিক রোমেনা আফাজ মুক্ত মঞ্চে দুইদিন ব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
পিঠা উৎসবে শিশুরা নতুন নতুন নামের পিঠা দেখে উৎসাহিত হয়েছেন। কেউ আবার পিঠা খেয়ে স্বাদ নিয়েছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিলো উপচেপড়া ভিড়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থী থেকে সব বয়সীরা এই মেলায় যেমন অংশ নিয়েছে তেমনি এর ক্রেতা ও দর্শনার্র্থীও সব শ্রেণীর। সব বয়সীরা এই পিঠা উৎসবে ভিড় করেন। নানা স্বাধের পিঠা নিয়ে পশরা সাজিয়ে বসেছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। নারী উদ্যোক্তারা এবং শখের বসে বেশ কিছু গৃহিনীও আসেন পিঠা মেলায় অংশ নিতে।
বর্ণিল পিঠা উৎসবের আইলা প্রজ্জ্বালন করে শুভ উদ্বোধন করেন বগুডা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। আইলা প্রজ্জ্বলনের সঙ্গে নৃত্য ছন্দম আর্টস একাডেমির শিল্পীবৃন্দ আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে ও কলেজ থিয়েটার পরিবেশন করে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের দলীয় সংগীত। সভাপতিত্ব করেন বগুড়া থিয়েটারের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লিটল থিয়েটারে সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না। এসময় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হাসান ববি, নজরুল পরিষদের সভাপতি এড. মনতেজার রহমান মন্টু, বগুড়া নাট্যদলের সভাপতি মির্জা আহছানুল হক দুলাল, বগুড়া ইয়ূথ কয়্যারের সভাপতি লায়ন আতিকুর রহমান মিঠু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অলক পাল, তামান্না ও তাহিয়া।
আলোচনা শেষে ভোর হলো সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে ও অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বিকেলে বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রচার সম্পাদক লুবনা জাহানের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে প্রকাশ শৈলী। এরপরে উচ্চারণ একাডেমি দলীয় পরিবেশনা ও কলেজ থিয়েটার পরিবেশন করে নাটক যুদ্ধ এবং যুদ্ধ। সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বগুড়া থিয়েটারের উপদেষ্টা এডনিস বাবু তালুকদার, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হান্নান, উচারণ একাডেমির পরিচালক এড. পলাশ খন্দকার। শনিবার পিঠা উৎসবের সমাপনী দিনে সকালে অনুষ্ঠিত হবে কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে বগুড়া থিয়েটার পরিবেশন করবে নাটক নানা রঙের দিন।
আয়োজক কমিটির প্রধান বগুড়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না জানান, লিটন থিয়েটার এবং ভোর হলো দীর্ঘদিন ধরে পিঠা উৎসব আয়োজন করে আসছে। শহুরে সমাজ বাঙ্গালীর যে ঐতিহ্য পিঠাপুলি, পায়েস এগুলো ভুলতে বসেছে। আজকের শিশুদের মাঝে পিঠা চেনানো, স্বাদ গ্রহণ, আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় ঘটিয়ে দেয়া।
বগুড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রচার সম্পাদক লুবনা জাহান জানান, চিরায়াত শহুরে বাঙালি তার অতীত ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ভুলতে বসেছে। পিঠা উৎসবের আয়োজন করে লিটল থিয়েটার ও ভোর হলো সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্যের এই পিঠার সাথে পরিচিত করে দেয়ার জন্যই এমন আয়োজন হয়ে থাকে। এখানে অনেক শিশুই আসছে যারা পিঠা বলতে ভাপা ও তেল পিঠা নিয়ে জানতো। অনেক পিঠা দেখে তাদের মাঝে একটি উৎসাহ দেখা গেছে।
পিঠা মেলায় স্টল দিয়ে অংশগ্রহণকারি সুহাদা কিচেন এর প্রধান সুহাদা জামান জানান, তিনি উৎসবে নিজ দায়িত্ববোধ থেকে এসেছেন। উৎসবে আসবার পর কি পিঠা কি ভাবে তৈরী করতে হয় সেটা অনেকেই জানতে চেয়েছেন। কেউ পিঠা তৈরী করা দেখেছেন। আবার অনেকেই পরিবারের জন্য পিঠা নিয়ে গেছেন।
পিঠা উৎসবে স্টল দেয়া এলিনা জাহান জানান, তারা প্রায় ১৭ প্রকার পিঠা তৈরী করেছেন। নতুন প্রজন্মকে পিঠার সাথে পরিচয় ঘটিয়ে দিতে এই পিঠা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। পিঠার পাশাপাশি হাতে তৈরী গহনা, হ্যান্ড পোইন্ট এর কাজও প্রদর্শন করেছেন।
ক্ষণিকা স্টলের প্রধান তাপসী দে জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তিনিও অংশ নিয়েছেন। নতুনদের জনাতে এই আয়োজনে তারও কোন কমতি নেই।