প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী, ২০২৪ ২৩:১৩

৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কাঁপছে নওগাঁ, বন্ধ রয়েছে স্কুল

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি নওগাঁ:
৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে কাঁপছে নওগাঁ, বন্ধ রয়েছে স্কুল

গত এক সপ্তাহ ধরে নওগাঁয় বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিলো। সর্বশেষ রবিবার (২১ জানুয়ারি) সবনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার (২২ জানুয়ারি) সেই তাপমাত্রা আরো কমে গেছে। এদিন সকাল ৯টায় নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করে। চলতি মৌসুমে এটাই জেলায় রেকর্ডকৃত সর্বনি¤œ তাপমাত্রা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা।

চলমান মৃদু শৈত্য প্রবাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার জেলার প্রাথমিক পর্যায়ের ১ হাজার ৩৭৪টি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪৪৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। তবে ছুটির বিষয়টি অভিভাবকরা অবগত না থাকায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করেই বিদ্যালয়ে কোমলমতী শিশুদের নিয়ে ছুটে আসেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে ছুটে এসে পড়েন একই দুর্ভোগে।

শহরের হাঁট নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্কুল ছুটির বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়নি। ভোরে উঠে বাচ্চাকে প্রস্তুত করে আসার পর জেনেছি ক্লাস বন্ধ। কনকনে শীতে স্কুল বন্ধ থাকলে আমরা বাচ্চাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তামুক্ত থাকি। তবে ছুটির বিষয়টি অন্তত মেসেজে হলেও জানানো উচিত ছিলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রবিবার দুপুরের আগেই ছুটি ঘোষণা হওয়ার পরেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদেরকে বিষয়টি অবগত করেননি। ওইদিন বিকেলে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ততক্ষণে অভিভাবকদের অবগত করার সুযোগ ছিলো না। তাই অনেকে শিক্ষার্থীই সকালে এসে ঘুরে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিয়ারা পারভীন বলেন, রবিবার আমি ছুটিতে ছিলাম। তাই প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির বিষয়টি সঠিক সময়ে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানাতে পারিনি। আগামীতে বিষয়টি খেয়াল রাখা হবে।

সোমবার শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর হলেই জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন শ্রমজীবি নি¤œ আয়ের মানুষরা। ঘর থেকে বেরিয়ে বাজারে আসার পর ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও তাঁদের অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না। হতাশ হয়ে আবারো ফিরে যেতে হচ্ছে বাড়িতে। তীব্র শীতের কারণে কাজের সংকট দেখা দেওয়ায় এসব মানুষদের জীবনযাত্রায় বেশ প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও গরম কাপড়ের অভাবে চরম বেকাদায় পড়েছেন ছিন্নমূল ও নি¤œ আয়ের অনেক মানুষরা।

গোস্তহাটির মোড়ে কাজে সন্ধানে আসা শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কাজ না করলে ভেটে ভাত জুটবে না। তাই কাজের সন্ধানে বেরিয়েছিলাম। বেলা ১১টা পার হওয়ার পরেও কাজ পেলাম না। কাজ না পেলে অর্ধাহারে অনাহারে কাটাতে হয়।

শহরের আরজী নওগাঁ মহল্লার বাসিন্দা হারজুন খাতুন বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। শীত আসলে কম্বল কেনার মতো টাকাও নেই। ২ বছর আগে কম্বলের একটা টোকেন দিয়েছিলেন পৌর কাউন্সিলর। এরপর আর কেউ কোনোদিন কম্বল দেয়নি। সরকারি কম্বল বিতরন চোখেই পড়ে না।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিন শীষ বলেন, এবছর শীতের শুরু থেকেই অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল বিতরন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে ৮ হাজার পিস এবং বেসরকারি দুইটি সংস্থার মাধ্যমে ১ হাজার ৫০০ পিস কম্বল বিতরন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে কম্বলের বরাদ্দ এখনো আসেনি। আবারো বরাদ্দ পেলে কম্বল বিতরন করা হবে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

উপরে