মহাদেবপুরে গৃহবধূর বাড়িতে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার, মালামাল লুট

নওগাঁর মহাদেবপুরে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করে মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার কুঞ্জবন মাস্টার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন রাত ১০টার দিকে থানা পুলিশ এ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করে। নিহত গৃহবধূ উপজেলা সদরের দশকলোনী পাড়ার ফেরদৌস আলমের স্ত্রী রীনা বেগম (৪৩)। ২৫ বছর আগে ফেরদৌস ও রীনার বিয়ে হলেও কোন সন্তান না হওয়ায় ফেরদৌস অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এনিয়ে ২০১৭ সালে রীনার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। রীনা সম্প্রতি ওই বাড়িটি নির্মাণ করে ভাই ভারি ও ৭ বছর বয়সের ভাতিজিসহ এই বাসায় বসবাস করে আসছেন। ইতোমধ্যে ফেরদৌসের দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেলে ফেরদৌস আবার রীনাকে বিয়ে করেন। নিহত রীনার ছোট ভাই একরামুল ইসলাম জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করেন ও তার স্ত্রী একটি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করেন। প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবার সকালে তারা স্বামী স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হন। অন্যদিন তাদের মেয়ে রীনার কাছে থাকলেও সেদিন তাদের সাথেই যায়। রাত ৮টার দিকে বাড়ি এসে রীনার ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও না খুললে তারা দরজা খুলে ঘরের মেঝেতে হাত-পা বাঁধা রীনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার আলমারির তালা ভাঙ্গা ছিল ও মালামাল এলোমেলো ছিল বলেও জানান। পরে থানা পুলিশে খবর দেন। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) গাজীউর রহমান, মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারনা। স্থানীয়রা জানান, জীবদ্দশায় রীনা বেগম বিভিন্ন জনের কাছে সুদে টাকা লগ্নি করতেন। ধারনা করা হচ্ছে এ টাকা লুট করতেই তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন