রাণীনগরে ঘুস বাণিজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুস বাণিজ্যে দুই পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি ঘুসের বিনিময়ে পছন্দের দুই প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি নিয়োগ কমিটিতে তিনি সদস্য সচিব থেকে নিজের ছেলেকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
আগামী শনিবার (৬ এপ্রিল) পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত (বন্ধ) করার জন্য বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান। অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরও।
লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে আবেদন করেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। আর নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ছেলে মামুনূর রশিদ আবেদন করেন। তার পক্ষে সতীর্থ প্রার্থী হিসাবে কৌশলে প্রধান শিক্ষক ওই পদে আরও তিনজনকে আবেদন করান। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক তার ছেলেকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ দিতে তার পছন্দের প্রার্থী ছাড়া আগ্রহী কারও কাছ থেকে নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন নেননি। আবার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা চুক্তির বিনিময়ে পছন্দের দুই প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক নিজে নিয়োগ কমিটিতে সদস্য সচিব থেকে তার ছেলেকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন। এছাড়া পছন্দের দুই প্রার্থীকে অন্য দুই পদে নিয়োগ দিতে মোটা অংকের অর্থের চুক্তি করে পরীক্ষার দিন দিয়েছেন। এ ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এলাকাবাসির পক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের জন্য অভিযোগ দিয়েছি। দ্রুত এই নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সাত্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ঘুস বাণিজ্যের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পন্ন মিথ্যা। আমি কোন প্রার্থীকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছি না। অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, ছেলে প্রার্থী হওয়ায় আমি নিয়োগ কমিটিতে থাকবো না। বিদ্যালয়ের জেষ্ঠ একজন শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হবে।
পারইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি ছোলায়মান আলী বলেন, শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষা হবে। আর যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের অনুলিপি পাওয়ার পর বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষে জানিয়েছি। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
