প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০২:৫৭
গাইবান্ধায় ছাত্রদলের সদস্য সচিবের উপর অতর্কিত হামলা: বগুড়ার হাসপাতালে ভর্তি
ষ্টাফ রিপোর্টার

ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে ব্যানারে নাম না থাকার বিতর্কে পূর্ব শত্রুতার জেরে গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মৃদুলের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিজ এলাকায় পুনরায় দুর্বৃত্তদের হামলা আতঙ্কে গাইবান্ধা থেকে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন তিনি।
রোগীর সাথে হাসপাতালে আসা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শুক্রবার উল্লা ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছিলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব অথচ ব্যানারে ছিলো না সদস্য সচিব মৃদুলের নাম। এ নিয়ে মঞ্চে থাকা অন্যান্য নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসা করতে গেলেই দলীয় কোন্দল ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অতর্কিত হামলা করা হয় মৃদুলের ওপর। জীবন বাঁচাতে স্কুল মাঠের পাশে একটি মিষ্টির দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা।
হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা মৃদুলের অভিযোগ সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহম্মেদ তুলিপ ও তার বাহিনীর দুর্নীতি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ ও সম্প্রতি তুলিপের বিরুদ্ধে হওয়া মানববন্ধনে অংশ নেয়ার জের ধরে তার ওপর সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। আক্ষেপের সাথে তিনি বলেন, দীর্ঘ বছর ছাত্র রাজনীতিতে জেল, জুলুম সহ্য করেও কখনো জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি হননি তিনি। পরিবারের সাথে না থাকতে পেরে রাতের পর রাত কাটিয়েছেন গোরস্থান, খোলা মাঠ আর চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়। অথচ ৫ আগস্ট পরবর্তীতে এসে ন্যায্য কথা বলার অপরাধে পূর্ব শত্রুতার রেশ মেটাতে তাদেরই অভিভাবক সংগঠন উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থেকেও তার ওপর যে নির্মমভাবে হামলা করা হয়েছে তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। তিনি এই ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এদিকে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া খেয়ে গাইবান্ধা থেকে এসে বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় মৃদুল কে ভর্তি করানো প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার যে ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো তার উদ্বোধন হয়েছে পরিশ্রমী ছাত্রনেতা মৃদুলের হাত ধরেই। প্রকৃত অর্থে ব্যানারের নাম থাকা কিংবা না থাকা নিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটেনি। এর পেছনে রয়েছে উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার ব্যক্তিগত রোষানল। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃদুল যখন কাতরাচ্ছিলো তখন প্রথমে তারা তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলেও সেখানেও দুর্বৃত্তরা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাকে বগুড়ার সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা।
ছাত্রদল নেতা মৃদুলের শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা: মুনতাসির রহমান জানান, মিজানুর রহমান মৃদুল মাথা, ঘাড়, কাঁধ ও বুকে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ইতিমধ্যেই রোগীর মাথায় ৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও শরীরের অভ্যন্তরে বড় কোন আঘাত বা ভাঙ্গা আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে বোঝা যাবে। আপাদত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে তারা সব ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন।