প্রকাশিত : ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:১৮

সতীন, দেবর ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সতীন, দেবর ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ গৃহবধূ আয়েশা সিদ্দিকা।- ছবি - সংবাদদাতা

"সতীনের ঘর করা আর অমাবস্যার রাতে বসবাস করা একই কথা"—প্রবাদটির যেন বাস্তব রূপ পেয়েছে আয়েশা সিদ্দিকার জীবনে।

বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর মধ্যপাড়ার সেকেন্দার আলীর ছেলে শামীম হোসেনের সঙ্গে বিয়ের পর আয়েশা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি শান্তিপূর্ণ ও সুখী দাম্পত্য জীবনের। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই স্বপ্নে ছেদ পড়ে, যখন স্বামী শামীম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই আয়েশার জীবনে নেমে আসে চরম অবহেলা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের অন্ধকার।

ভুক্তভোগী আয়েশা সিদ্দিকা সদর উপজেলার ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার আব্দুস সামাদের মেয়ে। তিনি দুই সন্তানের জননী। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সব সহ্য করে সতীনের সংসারেই টিকে থাকার চেষ্টা করছিলেন।

তবে সব সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায় ৫ জুলাই। ওইদিন স্বামীর বাড়িতে গেলে আয়েশার ওপর চড়াও হন তার সতীন, দেবর ও শ্বশুর। অভিযোগ রয়েছে, তারা একত্র হয়ে আয়েশাকে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে রয়েছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন।

এ ঘটনায় আয়েশার পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্বামী শামীম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং আয়েশা নিজেই আমার ছোট স্ত্রী, ভাই ও বোনকে মারধর করেছে।”

শ্বশুরের ভাষ্যেও মিলেছে একই অভিযোগ। তিনি বলেন, “তার (আয়েশার) অভিযোগগুলো মিথ্যা। সে উল্টো আমাকে মাথায় আঘাত করেছে।”

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

উপরে