বগুড়ায় বৃষ্টিতে শহর জলমগ্ন: আজিজুল হক কলেজে হাঁটুপানিতে পরীক্ষা
টানা বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বগুড়া শহরের বাসিন্দারা। সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পর্যন্ত তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীরা। হাঁটুপানি মাড়িয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে পরীক্ষার হলে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় বগুড়ায় ১৪০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর জেরে সেউজগাড়ি, বাদুড়তলা, চকসূত্রাপুর, খান্দার, সাতমাথা, ফুলতলা, জহুরুলনগরসহ অধিকাংশ এলাকাতেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সরকারি আজিজুল হক কলেজে।
চলমান উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কলেজের মাঠ, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনের চারপাশে হাঁটু সমান পানি। নোংরা ড্রেনের পানি পেরিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কেউ কেউ বলেন, “রিকশাও ঢুকতে চায় না। কলেজ গেট থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে যেতে ২০ টাকা পর্যন্ত চায় রিকশাচালকরা।”
অধ্যক্ষও হতাশ
সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শওকত আলম মীর বলেন, “কয়েকটি ওয়ার্ডের পানি আমাদের ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। জায়গাটি নিচু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আমরা বারবার জানালেও কার্যকর সমাধান হয়নি।” তিনি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি
বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বগুড়ার উপ-পরিচালক মাসুম আলী বেগ জানান, “জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর এলাকার ১০০টি ড্রেন আউটফল পরিষ্কারের কাজও শুরু হয়েছে।” পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরও ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
শহরবাসীর প্রত্যাশা: প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ চাই
বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শহরবাসীর ক্ষোভ বেড়েছে। তারা বলছেন, “আর আশ্বাস নয়, এবার চাই দৃশ্যমান পরিবর্তন।”
অপরিকল্পিত নগরায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং সমন্বয়হীনতা—এই তিনটি কারণকে সামনে রেখে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
