বদলগাছীতে চুরির ঘটনা বাড়ছে, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে উপজেলাবাসী
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় রাতের আঁধারে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। বাজার, দোকানপাট এবং গ্রামীণ বাড়িঘর সব জায়গাতেই নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় উপজেলাবাসী চরম আতঙ্ক ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সিদ্দিকের ফিডের দোকান চুরির সময় সুরুজ হোসেন নামে এক চোরকে আটক করা হয়। এর আগে, এক রাতে উপজেলার নওগাঁ রোডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শরিফুলের মুদি দোকান, মোড়ে সোহাগের চায়ের দোকান, মাসুদের মুদি দোকানসহ হটাৎপাড়া মজিদুলের বাড়ির ওয়াটার পাম্প চুরির শিকার হয়। এছাড়া গত ৭ আগস্ট সবজি ব্যবসায়ী সুমন হোসেন এর পালসার মোটরসাইকেল এবং ১০ আগস্ট বাজারের লিটন ভ্যারাইটি ষ্টোরের মালামাল চুরি হয়। তিন দিন পর ফারুক ষ্টোরের মালামাল চুরি হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সার্থক ট্রেডার্সের দোকান থেকে কীটনাশক ও অন্যান্য মালামাল চুরি হয়ে যায়। সম্প্রতি মথুরাপুর ইউনিয়নের পরিমল চন্দ্রের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল ও গরু চুরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত এক মাসে বদলগাছীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মোড় ও বাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে। চোরেরা কখনো গ্রামীণ বাড়ি, কখনো দোকান, কখনো আবার ট্রান্সফরমার চুরি করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সানজাদ রয়েল সাগর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দোকানের ওয়াল কেটে নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে। আমরা রাতদিন খেটে যা উপার্জন করি, তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পুলিশ আমার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।” সবজি ব্যবসায়ী সুমন হোসেন বলেন, “মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ দায় চাপাচ্ছে।”
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, “চুরির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ৩ জন চোরকে আটক করা হয়েছে, তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি।”
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা আক্তার জানান, “এতোগুলো চুরির খবর আমাদের কাছে নেই। তবে বদলগাছী থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তথ্য জানানো যাবে।”
উপজেলায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ রাতে ঘরে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না। কেউ ঘরের উঠানে ঘুমাচ্ছে, কেউ টর্চলাইট হাতে পাহারা দিচ্ছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন।
