বদলে যাবে শেরপুরের গ্রামীণ যোগাযোগ, ১৪টি রাস্তার টেণ্ডার, আরও ৯২টির প্রস্তাব
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। “বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৪টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ইতিমধ্যে এসব কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৪.৪৯৯ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ১৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ৮ জুলাই প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোর্শেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ১৪টি রাস্তার অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ২২০ টাকা।
প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত উল্লেখযোগ্য কিছু রাস্তা হলো—
রনবীরবালা-ঝাঞ্জর হাট-এলাঙ্গী ইউপি সড়ক (২.৫১৯ কিমি)
সালফা বাজার-খামারকান্দি ইউপি অফিস সড়ক (২.১৪৫ কিমি)
খামারকান্দি ইউপি-ঘোড়দৌড় হাট-পর্বভবানীপুর-আমরুল ইউপি সড়ক (২.৫২০ কিমি)
বথুয়াবাড়ি বাজার-খানপুর ইউপি সড়ক (১.৪২৫ কিমি)
সিমাবাড়ি ইউপি-জোরগাছা ব্রিজ সড়ক (০.৯০৫ কিমি)
চাকপাহাড়ী-খিদিরহাসড়া সড়ক (০.৬৬৫ কিমি)
এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ছোট রাস্তাও উন্নয়নের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে শেরপুর উপজেলায় এলজিইডি’র আওতায় মোট ২৭৫টি রাস্তা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৪১ কিলোমিটার পাকা, ২৭৬ কিলোমিটার কাঁচা ও ৬০ কিলোমিটার সোলিং রাস্তা। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ২২টি রাস্তা সংস্কারের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের খন্দকার টোলা থেকে সাধুবাড়ী পাকারমাথা এবং কুসুম্বি ইউনিয়নের বাসস্ট্যান্ড থেকে কেল্লা পশি মেলা পর্যন্ত দুইটি রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এসব রাস্তায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
শেরপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। একনেকে তা অনুমোদন হওয়ায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, খন্দকার টোলা রাস্তায় ২ কিলোমিটার আরসিসি ঢালাইয়ের প্রস্তাবনা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
শেরপুর সড়ক উপবিভাগের প্রকৌশলী শেখ রুহুল আজম বলেন, বাসস্ট্যান্ড থেকে কেল্লা পশি মেলা রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান। নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
