প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০২:০৫

রংপুরে ভবানীপুর গুচ্ছগ্রামে অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন: প্রশাসনের নিরব

জালাল উদ্দিন, রংপুর ঃ
রংপুরে  ভবানীপুর গুচ্ছগ্রামে অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন: প্রশাসনের নিরব

রংপুর মহানগরীর ১২নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর গুচ্ছগ্রামে বছরের পর বছর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসন নিরব। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এই নিরব দর্শকের ভূমিকাই চক্রটিকে বেপরোয়া করে তুলেছে। ঘাঘট নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী আবাদি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এমনকি কবরস্থান পর্যন্ত। তবুও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এই অবৈধ ব্যবসার পেছনে রয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সাহেব আলী নামে এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি দিব্যি বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে সাহেব আলী স্বীকার করেন ডজন খানেক মামলা রয়েছে, তবুও তো থামেনি কিছু। অপর এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, যিনি পুরো চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। আনিছ নামের আরেকজন ব্যক্তি বিগত এক বছর ধরে একটি বালুর পয়েন্ট চালিয়ে যাচ্ছেন, যার বিরুদ্ধেও চারটি মামলা চলমান। তাছাড়া ফারুক মিয়া নামে এক ব্যক্তি গত পাঁচ বছর ধরে একইভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন সম্পূর্ণভাবে আইনের তোয়াক্কা না করে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিন শত শত বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ শব্দদূষণ ও রাস্তাঘাটের মারাত্মক ক্ষতি। দিনমজুর রমজান আলী বলেন, আমাদের রাস্তাঘাট শেষ। কিছু বলতে গেলেই হুমকি দেয়, বলে আমাদের জমি, আমাদের বালু। আরেক বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, নদী থেকে বালু তোলার ফলে আশপাশের ফসলি জমি নদীতে ধসে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, এই চক্রের বিরুদ্ধে কথা বললেই প্রাণনাশের হুমকি আসে। প্রশাসনও চোখ বন্ধ করে রেখেছে, যেন তারা কিছু দেখছেই না। প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক মামলা ও বছরের পর বছর চলা এই বেআইনি কার্যক্রম সত্ত্বেও প্রশাসন কেন নীরব? তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা কি শুধুই অবহেলা, না কি ক্ষমতাধর মহলের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে এই দুঃসাহসিক বালু ব্যবসা? স্থানীয়দের জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে এলাকাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় এই পরিবেশগত ও সামাজিক বিপর্যয়ের দায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলকে একদিন বহন করতেই হবে। এ বিষয়ে রংপুর মহানগর সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুলতামিস বিল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো জানতে পারলাম। এ বিষয়ে পূর্বে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই, তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

উপরে