ল্যাপটপ পেলো শেরপুরের ১৪ তরুণ — ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন দিগন্ত খুলছে PI-এর ‘লার্ন টু আর্ন’ প্রকল্প
গ্রামীণ দরিদ্র ও মেধাবী তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে “লার্ন টু আর্ন” প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ বিতরণ করেছে উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেস থ্রো ইনোভেশন সোসাইটি (PI)।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় শেরপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুরুল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, শেরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন, আমেরিকা প্রবাসী সমাজসেবক ফজলে নাসিম খান (ইউএসএ), ট্রেজারার ড. মোল্লা আজফারুল হক এবং সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এটিএম কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আত্মনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তারা বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষাই ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের প্রধান মাধ্যম।
নির্বাহী পরিচালক এটিএম কামরুজ্জামান বলেন—
“আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই সহায়তা তাদের জীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”
প্রশিক্ষণ ও সুযোগ
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১৪ জন তরুণ-তরুণীকে তিন মাস মেয়াদি ‘কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়, যাতে তারা অনলাইনে বাস্তব ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।
এছাড়া, প্রশিক্ষণ-পরবর্তী আরও তিন মাস মেন্টরিং সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সফল অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছে।
অর্থায়ন
প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছেন আমেরিকা প্রবাসী ও সরকারী ডিজে মডেল হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. মোল্লা ফজলুল হক। তিনি বলেন—
“দেশের তরুণরা যেন বিদেশি মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।”
সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, “লার্ন টু আর্ন” প্রকল্পের পাশাপাশি তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ইংরেজি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল স্কিল ট্রেনিং, অফিস দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স, কম্পিউটার সাক্ষরতা কর্মসূচি ও ‘এসো একুশকে জানি’ বইপড়া উদ্যোগসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্প তরুণদের জীবন-মান উন্নয়নে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
