শাজাহানপুরে জমি বিরোধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. বকুল হোসেন।
সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রতিবেশী ফুল মাহমুদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টার অভিযোগ করেন।
বকুল হোসেন বলেন, “গত ৩ নভেম্বর প্রেসক্লাবে ফুল মাহমুদ তার (আমার) স্বত্বদখলীয় জমির মালিকানা দাবি করে নিখাঁদ ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এতে আমার সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে।”
অভিযোগে তিনি জানান, ফুল মাহমুদের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও আরও তিনজন এসএ ৩৩০৮ দাগে ১০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং ৩৩০৯ দাগে ৩ শতাংশসহ মোট ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে বর্তমানে সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল তুলে একটি সিএনজি গ্যারেজ নির্মাণ করেছেন।
অন্যদিকে, মূল খতিয়ানের মালিক মুনছুর রহমান মণ্ডলের কাছ থেকে ১৯৭২ সালে আবু তালেব মণ্ডল ৩৩০৮ দাগের সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরে ১৯৯৬ সালে আফজাল হোসেন খান ওই দাগসহ ৩৪ শতাংশ জমি আবু তালেবের কাছ থেকে কেনেন। আর ২০১৯ সালে আফজালের কাছ থেকে বকুল হোসেন ৪.২৭ শতাংশ জমি (বর্তমান আরএস দাগ ৩৮২১) ক্রয় করেন।
বকুল হোসেন বলেন, “আমার জমিটি দক্ষিণ পাশে অবস্থিত, আর ফুল মাহমুদের স্ত্রীর জমি উত্তর পাশে। তবে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে আমার জমি নিজের বলে দাবি করছেন।”
তিনি আরও জানান, মহাসড়ক প্রশস্ত করার সময় তার জমি থেকে ০.৯৪ শতাংশ এবং ফুল মাহমুদের স্ত্রীর জমি থেকে ১.৫৬ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা থেকে পৃথক ক্ষতিপূরণের চিঠি ইস্যু হয়। কিন্তু ফুল মাহমুদ তার ক্ষতিপূরণ দাবি করে বকুল হোসেনের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলনে আপত্তি জানান।
বকুল হোসেন দাবি করেন, “আমার দখলীয় জমির ওপর বহুদিন ধরে একটি চালু স’মিল রয়েছে। অথচ ফুল মাহমুদ সার্ভেয়ারগণের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করেছেন।”
তিনি বলেন, “ফুল মাহমুদ একজন মামলাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ। তার ভাড়াটে লোকেরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। যে কোনো সময় আমার প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।”
তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি জানান।
