প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৩

আইএলও কনভেনশন অনুস্বাক্ষর বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
আইএলও কনভেনশন অনুস্বাক্ষর বাস্তবায়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন—১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০—অনুস্বাক্ষরের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই সভার আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান, সহযোগিতা করে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন,

“আগামী ২০ নভেম্বর আইএলও-এর সাধারণ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

তিনি আরও বলেন, শ্রম আইন শুধু প্রণয়ন নয়, বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। মালিক, শ্রমিক ও নাগরিক সমাজ—সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বেই শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও ক্যাব-এর চেয়ারপার্সন এএইচএম সফিকুজ্জামান, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, নারী সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক, আইএলও প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামজুথান, এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিষ দামলে।

সভায় আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তারেক আজিজ। তিনি বলেন,

“বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে একসঙ্গে আইএলও-এর তিনটি কনভেনশন অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করেছে, যা শ্রম অধিকার সুরক্ষায় নতুন মাইলফলক।”

তিনি জানান, সংশোধিত শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নারী শ্রমিকের সমান মজুরি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, এবং দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ তহবিলসহ নানা সংস্কার আনা হয়েছে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় করার দাবি জানান। পাশাপাশি গৃহকর্মীদের অধিকার, প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মজুরি বৈষম্য দূরীকরণের ওপর জোর দেন।

সভায় গৃহকর্মী, শ্রমিক সংগঠন, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ অর্ধশতাধিক অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

উপরে