বিলম্বিত শীতে জমছে না গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর- হোসিয়ারী পল্লীর গরম কাপড় বেচা–কেনায় মন্দা
শীত পড়তে শুরু করলেও এখনও জমে ওঠেনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর হোসিয়ারী পল্লীর গরম কাপড়ের বেচা–কেনা। বছরের প্রায় পুরো সময় তৈরি হওয়া শীতবস্ত্র সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু এবার শীতের আগমন বিলম্বিত হওয়ায় পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় কম, ফলে বাজারে তেমন গতি আসেনি।
তবুও চাহিদা বিবেচনায় কারখানাগুলোয় মজুত রয়েছে মোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, কার্ডিগানসহ বিভিন্ন আইটেমের শীতবস্ত্র। শীত নামলেই বিক্রি বাড়বে—এই আশা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন বাস–ট্রাকে শীতবস্ত্র পাঠানো হয়।
গোবিন্দগঞ্জে শীতের পোশাক তৈরিতে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার হোসিয়ারী কারখানা। শীত শুরুর আগেই সরগরম হয়ে ওঠে কোচাশহর হোসিয়ারী পল্লী। প্রতিটি কারখানায় পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও সমান তালে কাজ করছেন। দিন–রাত পরিশ্রম করে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজাইনের মোজা, মাফলার, সোয়েটার, জাম্পার, কার্ডিগান, কান টুপি ও বিভিন্ন শীতপোশাক।
উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পেপুলিয়া, বনগ্রাম, কানাইপাড়া, রতনপুর, শক্তিপুর, ছয়ঘরিয়া ছাড়াও আশপাশের অর্ধশতাধিক গ্রামে এ শিল্পের বিস্তার ঘটেছে। এসব গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ছোট–বড় কারখানা। নারী–পুরুষ মিলে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক এ শিল্পে নিয়োজিত। উৎপাদিত গরম কাপড় নয়ারহাটের বিভিন্ন বিপণিবিতানে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হোসিয়ারী ব্যবসায়ীরা জানান,
“শীতের জন্য পর্যাপ্ত মালামাল মজুদ রয়েছে। কিন্তু শীত না পড়ায় ক্রেতার ভিড় নেই। শীত নামলেই বিক্রি জমে উঠবে বলে আশা করছি।”
হোসিয়ারী ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন সাজু বলেন,
“কোচাশহর থেকে নয়ারহাট পর্যন্ত রাস্তাটি সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন ৭–৮ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।”
তবে পাইকারি ক্রেতারা বলছেন,
“শীত না পড়ায় বাজারে চাপ কম। দামও এখন ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।”
এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আরও বিকাশে কোচাশহর হোসিয়ারী পল্লীকে সরকারি বিশেষ সুযোগ–সুবিধার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
