হাদীর ওপর হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছে কি না—নিশ্চিত নয়, সীমান্তে জোরদার নজরদারি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত দুই মোটরসাইকেল আরোহী হামলাকারী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে—এমন তথ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। একাধিক সূত্র হামলাকারীদের সীমান্ত পারাপারের দাবি করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এখনো পর্যন্ত তাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীতে হামলার পরপরই দুই হামলাকারী একটি প্রাইভেটকারে মিরপুর থেকে আশুলিয়া ও গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহে পৌঁছায়। সেখানে গাড়ি পরিবর্তন করে তারা হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজার এলাকায় যায়। পরে স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তবর্তী ভুটিয়াপাড়া বা ভূটিয়ারকোনা এলাকা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়—এমন দাবি করছে কয়েকটি সূত্র।
এই ঘটনায় সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতার অভিযোগে হালুয়াঘাট ও পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে সিবিরন দিও (৩৫) ও সঞ্জয় লিপি/চিসিম (২৫) নামের দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে গভীর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস বলেন, হামলাকারীরা ভারতে পালিয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পুলিশের হাতে নেই। গুঞ্জনের বিষয়টি আমলে নিয়ে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, হামলাকারীরা পালিয়েছে কি না—উভয় সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সীমান্তজুড়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চলছে। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীর পুরানা পল্টনে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সরকার হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।
সূত্রঃ অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
