জরাজীর্ণ ঘরে অনাহারে দিন কাটছে রায়গঞ্জের অন্ধ হাজেরা খাতুনের
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চরপাড়া গ্রামে চরম অবহেলায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন পঞ্চাশ বছর বয়সী হাজেরা খাতুন। জন্মগতভাবে নয়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়া এই নারী আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তার আওতায় আসেননি।
হাজেরা খাতুন চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলীর মেয়ে। তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন অর্ধেকাংশ টিনছাড়া একটি জরাজীর্ণ দোচালা ঘরে। ঘরের চারপাশের বেড়া ও টিন নষ্ট হয়ে পচে গেছে, কোথাও কোথাও বড় ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। জানালাবিহীন ঘরের ভাঙাচোরা দরজা কাপড়ের ফাঁস দিয়ে বাঁধা ও হেলান দিয়ে রাখা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, আর শীতের রাতে চারদিকের ফাঁক দিয়ে হিমেল বাতাস ঢুকে পড়ে।
ঘরের ভেতরে একটি ভাঙা চৌকি ছাড়া নেই কোনো আসবাবপত্র। ছেঁড়া কাঁথা বিছিয়ে ও আরেকটি গায়ে জড়িয়ে কোনো রকমে রাত কাটে তার। বিয়ে হলেও অল্পদিনের মধ্যেই স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। এরপর আর কোনো সংসার গড়ে ওঠেনি, জন্ম হয়নি কোনো সন্তানও। একাকীত্বই হয়ে উঠেছে তার জীবনের স্থায়ী সঙ্গী।
একসময় চোখে দেখতে পেলেও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি, পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে শ্রবণশক্তিও। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের কেউ খাবার দিলে খেয়ে বাঁচেন, না দিলে দিনের পর দিন অনাহারে কাটাতে হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই চরম অসহায় অবস্থাতেও তিনি বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সুবিধা পাননি। শীত মৌসুমেও সরকারি সহায়তার তালিকায় তার নাম ওঠেনি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে হাজেরা খাতুনকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের উদ্যোগ নেওয়া হলে অন্তত ন্যূনতম সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে জীবনের শেষ সময়টুকু মানবিক মর্যাদায় কাটাতে পারবেন হাজেরা খাতুন।
