প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২২:৪১

বগুড়ার শিবগঞ্জে অবৈধ সিগারেট কারখানা সিলগালা, জব্দ প্রায় ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শিবগঞ্জে অবৈধ সিগারেট কারখানা সিলগালা, জব্দ প্রায় ১০ কোটি টাকার সরঞ্জাম

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি রাজস্ব কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে পরিচালিত একটি অবৈধ সিগারেট কারখানার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘ অভিযান শেষে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা থেকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা পর্যন্ত খয়রাপুকুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ব্যান্ডরোল, ভুয়া মোড়ক, ভেজাল তামাক ও সিগারেট তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জানা যায়, শাহিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন নামহীন ওই কারখানায় অনুমোদনহীন ১৪টি ব্র্যান্ডের মোড়কে কাঠের গুঁড়া মিশ্রিত তামাক ব্যবহার করে নকল সিগারেট উৎপাদন করা হচ্ছিল

অভিযানকালে কারখানা থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার নকল ব্যান্ডরোল, ১০ লাখ টাকার ভুয়া মোড়ক, ১০ মণ ভেজাল তামাক এবং প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন

কারখানার রেজিস্ট্রার ও স্টক খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেখানে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোর্শেদা আলমের স্বাক্ষর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও নীরব সমর্থনের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রমটি নির্বিঘ্নে চলছিল।

এ বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার সেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

জরিমানা ও সিলগালা

অভিযান চলাকালে কারখানার মালিক শাহিনুর রহমান পালিয়ে গেলেও পাঁচজন শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান শ্রমিকদের মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং কারখানাটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন,
“রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল আগামী বৃহস্পতিবার ধ্বংস ও বাজেয়াপ্ত করা হবে।”

আরও তদন্তের দাবি

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এত বড় জালিয়াতি চক্র পরিচালনার পেছনে আরও প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।

উপরে