তারাগঞ্জে খাদ্য বিভাগে চাল সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, বন্ধ মিল দেখিয়ে বরাদ্দ ও নিম্নমানের চাল সরবরাহ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে—যেসব চালকলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই কার্যত বন্ধ অথবা মানসম্মত উৎপাদনের উপযোগী নয়।
সরেজমিনে একাধিক মিল পরিদর্শনে দেখা যায়, অনেক হাসকিং মিলেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। মেসার্স আর কে চালকলে গিয়ে দেখা গেছে, বয়লার অপরিষ্কার, আশপাশে কুকুর শুয়ে রয়েছে, নেই মোটর, ড্রাম কিংবা চাল পরিস্কারের মেশিন। চাতালও অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে এবং বয়লারের পাশে প্রস্রাবখানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। দুর্গন্ধে সেখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে আহমদ চালকলে গিয়ে দেখা যায়, বয়লার অপরিষ্কার এবং সেখানে গাছ পর্যন্ত জন্মেছে। মিল মালিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, অল্প বরাদ্দে বিদ্যুৎ বিলও ওঠে না। শুধু লাইসেন্স টিকিয়ে রাখার জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়। বাস্তবে তিনি নিজের মিলে চাল উৎপাদন না করে বাইরে থেকে চাল কিনে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছেন বলে স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মিলার অভিযোগ করে বলেন, হাসকিং মিলগুলোকে খুব কম বরাদ্দ দেওয়া হলেও অটো রাইস মিলগুলোকে তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ অটো রাইস মিলগুলো নিম্নমানের, খুদ ও ভিন্ন জাতের মিশ্রিত চাল সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের অভিযোগের সূত্র ধরে জানা গেছে, এরিস্টোক্রাট এগ্রো লিমিটেড চলতি মৌসুমে ২ হাজার ২৪৮ কেজি চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছে। সরবরাহ করা চালগুলোতে খুদ মিশ্রিত, বিবর্ণ ও নিম্নমানের দানা পাওয়া গেছে। সরকার নির্ধারিত মান অনুযায়ী আর্দ্রতার পরিমাণ ১৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও তা কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ও ব্যবস্থাপক অলিভের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম ভেঙে চাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে খাদ্য গুদামে চাল গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ওসিএলএসডি জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা অটো রাইস মিলের অনুমতি দেই না। এসব বিষয়ে ডিসি ফুড স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আফরোজা খাতুন বলেন, “আমি নিজে কিছু বস্তা চাল দেখে নিয়েছি। সব বস্তা দেখা সম্ভব হয়নি।” হাসকিং মিল বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাবর হোসেন বলেন, “আমার সময়ে এই বরাদ্দ হয়নি। তবে এখন থেকে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।”
চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে এমন অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
