প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ০০:১০

রংপুরে তীব্র শীতের কারণে আলুর ক্ষেতে ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে

জালাল উদ্দিন, রংপুর
রংপুরে তীব্র শীতের কারণে আলুর ক্ষেতে ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে

রংপুরে তীব্র শীতের কারণে আলুর ক্ষেতে ব্লাইট রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পরেছে। রংপুরে টানা কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে আলু ক্ষেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাইট রোগ। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগে আক্রান্ত গাছের পাতায় কালচে দাগ ও ফোসকার মতো ক্ষত তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে পাতা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ধরা হয়। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। কৃষকদের ভাষ্য, আলুর চারা যখন সতেজ হয়ে সবুজ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রভাবে লেট ব্লাইট বা পাতামড়ক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত জমিতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও তারা রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর মড়ক রোগ একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি মৌসুমে সারাদেশে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তারাগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তামান্না বেগম বলেন, আলুর মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। রোদ কম থাকলে, অর্থাৎ বর্তমান আবহাওয়ায় আলুর পাতা গজানোর পর থেকে পাঁচ দিন পরপর ৪০ দিন পর্যন্ত ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে পচন রোধে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শীত ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়লে আলু ক্ষেতে ঘন ঘন স্প্রে করতে হবে। তার লক্ষ্মীপুর ব্লকে এ বছর ২১০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদি জমির পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলেও তিনি জানান। আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগের লক্ষণ সম্পর্কে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রথমে গাছের গোড়ার দিকের পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা, হালকা সবুজ গোলাকার বা বিভিন্ন আকারের দাগ দেখা যায়। পরে এসব দাগ দ্রুত কালো রং ধারণ করে এবং পাতা পচে যায়। সকালে মাঠে গেলে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো জীবাণু দেখা যায়। কৃষকদের করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, রোগের অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাত দিন পরপর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে এবং গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যদি ফসল ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে জমিতে সেচ বন্ধ করে চার থেকে পাঁচ দিন পরপর সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে।

 

উপরে