শেরপুরে তরুণী গৃহবধূর অকাল প্রয়াণ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গারিদহ ইউনিয়নের বনমরিচা গ্রামে মিনতি খাতুন (৩০) ওরফে বিরতি খাতুন নামে এক তরুণী গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২ টার দিকে বাড়িতে হঠাৎ পড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মিনতি খাতুন। পরে তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে স্বজনরা জানান।
নিহত মিনতি খাতুনের স্বামী কবির হোসেন বাবু (৪২)। তার পিতার নাম কব্বাত সরকার। প্রায় ১৫ বছর আগে ধুনট সদর উপজেলার চালাপাড়া-চৈতাপাড়া গ্রামের মোজহার আলীর মেয়ে মিনতির সঙ্গে বাবুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুইটি সন্তান রয়েছে। একজন তৃতীয় শ্রেণি ও অপরজন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতের ভাগিনা রকি জানান, কবির হোসেন বাবু একজন ব্যবসায়ী এবং কয়েকটি ডিস্ট্রিক্ট ট্রাকের মালিক।
নিহতের স্বামী কবির হোসেন বাবু জানান, ব্যবসায়িক কাজে তিনি রাত ২ টার দিকে শেরপুর কলেজ রোড এলাকায় ছিলেন। পরে বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন তার স্ত্রী হঠাৎ পড়ে গেছেন। বাইকের হর্ন দিলে দরজা খুলে দেওয়া হয়। এরপর স্বজনদের সহায়তায় তাকে অটোরিকশায় করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাবুর খালাতো ভাই রানা বলেন, রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিনতি খাতুন পড়ে যান। পরে বাবু এসে স্বজনদের নিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ভোর ৬টার দিকে মরদেহ বাড়িতে আনা হয় এবং সকাল ৮টার দিকে গোসল করানো হয়। তবে এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক জানান, রোগীকে রাত ৩টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে তার অবস্থা গুরুতর ছিল। সে কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
