জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে মাদ্রাসা বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান। ২০০৪ সালে তিনি ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সমাজ উন্নয়নে নিরলস অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম উব্বর আলী জায়দার ।
গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৭৭ সালে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। দীর্ঘ অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯৯২ সালে কামিল হাদিস ও ফিকহ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে বিএ এবং ইসলামী শিক্ষায় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি ২০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিয়ে সনদ অর্জন করেন, যা তাঁকে একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
১৯৯৩ সালে উলিপুর মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে উপাধ্যক্ষ পদে উন্নীত হয়ে টানা ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তাঁর দক্ষতা জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পায়। ২০০৪ সালে তিনি ‘জাতীয় শ্রেষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষক (মাদ্রাসা)’ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৯ ও ২০০২ সালে জাতীয় শ্রেষ্ঠ ইমাম হিসেবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেন।
নিজ গ্রামে কাফুরা পূর্বপাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও কাফুরা সমবায় বালিকা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাফুরা সর্বোন্নতি বিধায়ক সমবায় সমিতি গড়ে তুলে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে পদক লাভ করেন। বর্তমানে তিনি খন্দকারটোলা মুন্সিপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ধর্মীয় নেতৃত্বেও তিনি সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। শেরপুর কলেজ মসজিদ, উলিপুর শাহী জামে মসজিদ, সকাল বাজার কাচারী জামে মসজিদ, শিবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে দীর্ঘদিন খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১১ সালে নন্দীগ্রামের দামগাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর ২০১৩ সালে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে তিনি নিয়মিত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তাঁর নেতৃত্বে মাদ্রাসাটিতে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে আসে দৃশ্যমান পরিবর্তন। সুবিশাল কুরআনের রেহাল সংবলিত গেট, অভ্যন্তরীণ সড়ক, সাইকেল গ্যারেজ, একাধিক একাডেমিক ভবন, হিফজুল কুরআন ও নূরানী বিভাগের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে কামিল তাফসির বিভাগসহ একাধিক অনার্স কোর্স চালুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
ব্যক্তিজীবনে তিনি পরিমিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত। বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদার্রেছীন বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও শেরপুর উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি তিনি ‘জান্নাতের রত্ন ভাণ্ডার’ নামে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার একটি ধর্মীয় গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন, যা পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
