উত্তরায় আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দুই পরিবারের ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই পরিবারের ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (— জানুয়ারি) সকালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি ছয়তলা ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয় সকাল ১০টার দিকে।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবন থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, নিহতরা দুটি পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে এক পরিবারের তিনজন একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তারা হলেন— কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান।
নিহত কাজী ফজলে রাব্বি রিজভীর বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকায়। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে গেছে।
সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ রাখা হয়েছে মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শিশুপুত্র রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে।
পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের বরাতে জানান, নিহত তিনজনের শরীরে দগ্ধের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
অপর পরিবারের নিহত তিনজন হলেন— মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।
হারিছ উদ্দিন ও তার ছেলে রাহাবের মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং কিশোরী রোদেলা আক্তারের মরদেহ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রাখা হয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বলেন,
“প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনের দ্বিতীয় তলার রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। গ্যাস সংযোগের ত্রুটি অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বর।
