প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ০২:৫২

অরাজনৈতিক কমিটিতে রাজনৈতিক মুখ, নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণপদত্যাগ

নওগাঁ সংবাদদাতাঃ
অরাজনৈতিক কমিটিতে রাজনৈতিক মুখ, নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণপদত্যাগ
 বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও আন্দোলনের মূল চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরে একযোগে গণপদত্যাগ করেছেন কমিটির ১০ জন নেতা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। পদত্যাগ করা এ নেতাদের মধ্যে এক সংগঠক, এক জুলাই আহত যোদ্ধাও রয়েছেন।
 
পদত্যাগপত্রে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় অনুমোদনে সম্প্রতি নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা শুরু থেকেই বিতর্ক, প্রশ্ন ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও পরবর্তী কার্যক্রম আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান, আদর্শ এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।
 
পদত্যাগকারী নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটি আন্দোলনের আদর্শ ধারণ না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত, অস্বচ্ছতা ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কমিটির সদস্য হিসেবে থাকা তাদের জন্য বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের আদর্শ, মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার স্বার্থেই তারা নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
 
জুলাই আহত যোদ্ধা ও কমিটির সদস্য সালমান বলেন, আমরা রাজপথে ছিলাম।  লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছি। আর আজ দেখি, সেই সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। আহত যোদ্ধারা অবহেলিত, অথচ এমন অনেকে এই কমিটিতে আছেন যারা কখনো সামনে দাঁড়ায়নি।
 
সংগঠক সিহাব হোসেন, এই কমিটি আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি নিদিষ্ট রাজনৈতিক দলের পথবঞ্চিত নেতারা রয়েছেন। তারা আন্দোলনের চেতনা নয়, নিজেদের চেয়ার রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত। আমরা আশা করেছিলাম এই কমিটি পুরোটাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে।এমন কমিটি থাকলে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটা আর চলতে দেওয়া যায় না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে গণপদত্যাপত্র পাঠিয়েছি।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদত্যাগকারীদের আরও কয়েকজন বলেন, সদস্য সচিবসহ এই কমিটিতে অনেকেই আছেন যারা এনসিপির পদবঞ্চিত নেতা। তারা অনেকে সেই দলের মিছিলের সম্মুখ সারিতে ছিলেন। অরাজনৈতিক কমিটিতে রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। তারা  অনেকেই মনে করেন জুলাই আদর্শের সাথে এটি সাংঘর্ষিক।
 
এবিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহবায়ক আরমান হোসেন বলেন, গণপদত্যাগপত্র পাওয়ার পর তাৎক্ষনিক সেখানে স্বাক্ষরকারীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। সেখানে সংগঠক সিহাব ছাড়া আর কেউ স্বাক্ষর করেননি। কেউ সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই গণপদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছে বলে আমরা ধারনা করছি। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনা চলমান রয়েছে।
 
তিনি বলেন, পদত্যাগপত্রে যে কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই। সদস্য সচিব রাফি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে এখানে যুক্ত হয়েছেন। সবে মাত্র একটি পরিচিতি সভা আমরা সফলভাবে করেছি। তাই এখানে সাংগঠনিক দুর্বলতার প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
 
উল্লেখ্য: এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা আহবায়ক কমিটি অনুমোদন  দেয়া হয়। যেখানে আহবায়ক করা হয় জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়ক আরমান হোসেনকে। সদস্য সচিব করা হয় এনসিপির পদবঞ্চিত নেতা রাফি রেজওয়ানকে।
উপরে