বগুড়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখলের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: আহত জুলাই যোদ্ধারা
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয় দখল করে তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আহত জুলাই যোদ্ধারা। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বগুড়া শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের যে স্থানটিকে জাতীয় পার্টির কার্যালয় হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সেখানে জাতীয় পার্টির কোনো বৈধ সাইনবোর্ড, নামফলক বা দলীয় কার্যালয়ের অস্তিত্ব নেই। বরং ওই স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ভাঙাচোরা ও পরিত্যক্ত ঘর হিসেবে পড়ে ছিল, যেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বগুড়ার আগের জেলা প্রশাসক জাতীয় পার্টির লিজ আবেদন খারিজ করেছিলেন। ফলে ওই স্থানে তাদের কোনো বৈধ অধিকার নেই।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, আহত জুলাই যোদ্ধারা কখনোই উক্ত স্থান দখল করেননি। সেখানে শুধুমাত্র গণভোট সংশ্লিষ্ট একটি সাময়িক ও অস্থায়ী ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল, যা আশপাশের অনুমতি সাপেক্ষেই করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেয় যে আহত জুলাই যোদ্ধারা স্থানটি দখল করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান তাদের ডেকে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং ওই স্থানে অবস্থান না করার অনুরোধ জানান। প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা স্বেচ্ছায় স্থানটি ত্যাগ করেন বলেও জানান বক্তারা।
আহত জুলাই যোদ্ধারা বলেন, এরপরও ‘তালা ঝুলিয়ে রাখা’ বা ‘কার্যালয় দখল’ সংক্রান্ত যে বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেওয়ার পরও জাতীয় পার্টির কর্মীরা পুনরায় সেখানে মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে স্থানটিকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে, যা প্রশাসনিক আশ্বাসের পরিপন্থী।
বক্তারা জাতীয় পার্টিকে স্বৈরাচারী কার্যকলাপ ও গণতন্ত্র হত্যার সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক পুনরুত্থান গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য উদ্বেগজনক। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা এবং দলটিকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আহত জুলাই যোদ্ধারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, আহত জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে জুলাই যোদ্ধাদের কার্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় এনসিপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভবিষ্যতে আহত জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শহীদ ও আহত সেল কেন্দ্রীয় বিভাগীয় প্রতিনিধি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিদুজ্জামানসহ আহত জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বিজ্ঞপ্তি
