প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬ ২৩:৪২

সিরাজগঞ্জে লুণ্ঠিত অর্ধেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি: শঙ্কায় ভোটার ও প্রার্থীরা

​ সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা:
সিরাজগঞ্জে লুণ্ঠিত অর্ধেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি: শঙ্কায় ভোটার ও প্রার্থীরা

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় ভয়াবহ হামলার ১৭ মাস পার হলেও লুণ্ঠিত অস্ত্রের অর্ধেকই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীরা। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ভোটের পরিবেশ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।​ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট এনায়েতপুর থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ওইদিন দুই থানা থেকে ১০টি চাইনিজ রাইফেল, ১২টি পিস্তল, ৬টি শর্টগান ও পাঁচ শতাধিক রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, লুণ্ঠিত মোট ২৮টি অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সিরাজগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, "আমরা বারবার নির্বাচনের আগে কেয়ারটেকার সরকারের দাবি জানিয়েছিলাম যেন তারা অস্ত্র উদ্ধার করতে পারে। বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচনের মাঠে ভয়ের পরিবেশ রয়ে গেছে।"
​একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী শাহিনুর আলম চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। বাসদ নেতা নব কুমার কর্মকার বলেন, "বিগত নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্রও জমা নেওয়া হতো, কিন্তু এবার অবৈধ অস্ত্রই উদ্ধার হয়নি।"
জনমনে শঙ্কা থাকলেও আশ্বস্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, "অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিরলস কাজ করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"​পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানিয়েছেন, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুর রহমান মিয়া জানান, চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

উপরে