শিক্ষাকে পণ্যে পরিণতকারী রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্রপ্রতিরোধ গড়ার আহ্বান
শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং দমনমূলক রাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত ছাত্রপ্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের উদ্যোগে একটি সাংগঠনিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল এগারোটায় বগুড়া জেলা উদীচী কার্যালয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সভাপতি বায়েজিদ রহমান। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জয় ভৌমিক।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি ও সিপিবি বগুড়া জেলার সভাপতি আমিনুল ফরিদ, ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সাবেক সভাপতি এবং কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, ছাত্র ইউনিয়ন বগুড়া জেলা সংসদের সাবেক সভাপতি নাদিম মাহমুদ ও ছাব্বির আহম্মেদ রাজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সমাজকল্যাণ ও পরিবেশ সম্পাদক তিলোত্তমা ইতি। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংগ্রামী ছাত্রনেতা ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা সচেতনভাবেই শিক্ষাকে পুঁজির অধীনে নতজানু করেছে। শিক্ষা আজ আর অধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না, বরং তা মুনাফার পণ্যে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোকে ভয় ও দমননীতির পরীক্ষাগারে রূপান্তর করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় আপসকামী রাজনীতির কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কোনো সুবিধাভোগী রাজনীতির অংশ নয়। সংগঠনটি শোষণ, বৈষম্য ও দমননীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াইয়ের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইউনিটভিত্তিক সাংগঠনিক কাজ জোরদার করা, সদস্য সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং সাধারণ ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেই দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
কর্মশালায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক শিক্ষা, সদস্য সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শেষ পর্বে শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গণআন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
কর্মশালার শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদসহ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আত্মদানকারী সকল শহিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
