করতোয়া নদীর সাড়ে ষোলো একর ভূমি উদ্ধার বগুড়া বাপার বড় অর্জন
বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক বেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেছেন, করতোয়া নদীর সাড়ে ষোলো একর ভূমি উদ্ধার বগুড়া বাপার একটি বিশাল অর্জন। শুধু নদী রক্ষা নয়, পরিবেশ দূষণ, যানজট নিরসন এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বহুমুখী বিষয়ে বগুড়া বাপা যে কাজ করে যাচ্ছে, তা দেশের অন্যান্য জেলা কমিটির জন্য অনুকরণীয়।
শুক্রবার রাতে বাপা ও বেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উত্তরাঞ্চল সফর উপলক্ষে বগুড়ায় যাত্রাবিরতির সময় বগুড়া বাপার আয়োজনে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়া বাপা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী সাহাবুদ্দীন সৈকতের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলারের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক সমন্বয়ক ও বাপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, বাপা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর কবির, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এবং বেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল কবির।
এছাড়াও সভায় বগুড়া বাপা শাখার পক্ষে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল করিম দুলাল, অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান মুক্তা, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান এবং সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা করতোয়া নদীসহ বগুড়ার বিলীনপ্রায় প্রায় আঠারোটি নদীর বর্তমান করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি শব্দ দূষণ, যানজট এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত সুইসগেট দ্রুত অপসারণ করা না হলে করতোয়া নদীর পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং ভবিষ্যতে নদীটি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এতে করতোয়া নদীকে ঘিরে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ধীরে ধীরে ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাপা কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ড. খালেকুজ্জামান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারাদেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাতটি নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে বগুড়ার করতোয়া নদীও রয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বাপা ও বেন বদ্ধপরিকর। যারা পরিবেশ ধ্বংস করবে, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করবে কিংবা ভূমির উর্বরতা নষ্ট করবে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সংগঠন দুটি কোনো কার্পণ্য করবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া বাপা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মোতাছিম বিল্লাহ শিমুল, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা, নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আশরাফুন্নাহার স্বপ্না, শেখ মোহাম্মদ আবু হাসানাত সাঈদ, ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ, এম ফজলুল হক বাবলু, জাহেদুর রহমান, ফজলুল হক, অ্যাডভোকেট সাহাদত হোসেন সহল, রোমমানা খাতুন রুমাসহ আরও অনেকে।
