বখাটেদের উপদ্রবে নিজ বাড়িতে নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবা
নওগাঁর ধামইরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় মেধাবী শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা [১৮] নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার [২০ জানুয়ারি] দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জাহানপুর এলাকায় জয়পুরহাট–নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে জাহানপুর এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
নিহত হাবিবা জাহানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামের হাফেজ মো. হাসান আলীর কন্যা। তিনি দুই ভাইবোনের মধ্যে বড় ছিলেন। হাবিবা ২০২৫ সালে জাহানপুর এসসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন এবং বর্তমানে মঙ্গলবাড়ী ময়েজ মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারি রাতে পড়াশোনা শেষে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন হাবিবা। পরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে গুরুতর আহত করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী পূর্বে হাবিবাকে বিরক্ত করত।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাবিবার মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধন শেষে জাহানপুর থেকে মঙ্গলবাড়ী বাজার হয়ে মঙ্গলবাড়ী ময়েজ মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
দুপুরের দিকে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পাল, পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামসহ ধামইরহাট থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
হাবিবার সহপাঠী রিফা আক্তার বলেন, “হাবিবা খুব মেধাবী ও মিশুক ছিল। তার এমন মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন ঘটনা আবারও ঘটবে।”
এ বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার [ক্রাইম অ্যান্ড অপস] জয়ব্রত পাল বলেন, “হাবিবার মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
