গোবিন্দগঞ্জে চায়ের কাপে নির্বাচনী ঝড়: কী চান ভোটাররা?
শীতের সকালে কুয়াশাভেজা মেঠোপথ হোক বা শহরের ব্যস্ত মোড়—গোবিন্দগঞ্জের সর্বত্রই এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘ভোট’। পিঠাপুলি আর চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার পাশাপাশি ভোটাররা মেলাচ্ছেন আগামী দিনের উন্নয়নের হিসাব-নিকাশ।
গোবিন্দগঞ্জের মানুষের এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান চাওয়া হলো সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম এলাকায় প্রস্তাবিত ইপিজেড (ঊচত) দ্রুত বাস্তবায়ন করা। স্থানীয়দের মতে, এই ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে। ভোটাররা এমন একজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব চান, যিনি সরকারি পর্যায়ে জোরালো তদ্বিরের মাধ্যমে এই প্রকল্পটিকে দ্রুত আলোর মুখ দেখাবেন।
গোবিন্দগঞ্জের ভোটারদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার বগুড়া বা রংপুর যাওয়ার ভোগান্তি কমাতে একটি স্থানীয় মেডিকেল কলেজ এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনকে প্রার্থীরা তাদের অন্যতম এজেন্ডা করবেন বলে ভোটাররা আশা করছেন।
কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত গোবিন্দগঞ্জে বন্ধ হয়ে থাকা চিনিকল চালু করা এবং কোচাশহরের হোসিয়ারি শিল্পের প্রসারে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি এখন তুঙ্গে। ভোটাররা চান, প্রথাগত কৃষির বাইরেও শিল্পায়নে আধুনিক ছোঁয়া লাগুক।
গোবিন্দগঞ্জে শিশু-কিশোর ও পরিবারের জন্য কোনো আধুনিক বিনোদনের জায়গা নেই। তাই ভোটারদের অন্যতম দাবি, এখানে একটি মানসম্মত ও আধুনিক বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা হোক, যা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করবে।
পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যানজট নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গোবিন্দগঞ্জকে একটি আধুনিক ও 'স্মার্ট শহর' হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।
কামারদহ ও নাকাইহাট এলাকার ভোটাররা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশা করছেন। প্রবীণ ভোটারদের দাবি, যিনি নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখবেন, তাকেই তারা জয়যুক্ত করবেন।
