নতুন ভোটাররা রাষ্ট্রের চরিত্র বদলানোর সুযোগ পেয়েছে- বগুড়ায় উপদেষ্টা ফারুক ই আজম
নতুন ভোটাররা এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দেয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদরের ফাঁপোর এলাকায় ভোটার উদ্বুদ্ধকরন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে উপদেষ্টা আরো বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকার সংবিধান থেকে হ্যাঁ না ভোট বাদ দিয়েছিল। কিন্তু এবার গণভোটে ইতিবাচক রায়ের মাধ্যমে আগামী দিনে সংবিধান পরিবর্তন হবে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন সম্পন্ন হলেই এই সরকার দায়িত্ব ছেড়ে দেবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে, সেখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আয়োজনে উপদেষ্টা সাধারণ জনগণকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, যদি আপনারা হ্যাঁ ভোট দেন তাহলে বহুবিধ সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে। না হলে কিছুই পাবেন না।ফ্যাসিস্টদের ফেরানো ঠেকাতে হ্যাঁ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রের চাবি কাঠি হাতে রাখার এ সুযোগ যেনো জাতি না হারাই। হ্যাঁ ভোট দিলে কি পরিবর্তন হবে সাধারন মানুষ জানতে চাইলে ফারুক ই আজম বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে আগামীতে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে। যেখানে থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, বিভাগীয় পর্যায়ে গঠন হবে হাইকোর্টের বেঞ্চ, উপজেলা পর্যায়ে আদালত গঠনসহ বিধান থাকবে একজন ব্যক্তি একসাথে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ প্রধান ও রাজনৈতিক দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। ক্ষমতায় যেই থাকুক তা ১০ বছরের বেশি হবে না। পাশাপাশি ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ কক্ষ পার্লামেন্ট গঠন হবে। উপদেষ্টা বলেন, পূর্বে অনেক বহুল আলোচিত আসামিদেরকেউ মহামান্য রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারতো কিন্তু জুলাই সনদে মামলার বাদির থেকে পূর্ব অনুমতি না নিয়ে রাষ্ট্রপতিও ক্ষমা করতে পারবেন না। এমন গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় তিনি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন।
উঠান বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, বগুড়ার সিনিয়র তথ্য অফিসার মুহা. মাহফুজার রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান প্রমুখ। বৈঠকে ফাঁপোড় এলাকার নানা শ্রেণীর পেশার পুরুষ ও নারীরা অংশগ্রহণ করেন।
