প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ০১:৩৩

বগুড়ায় আবাদী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। চলছে অনিয়মের মহোৎসব

নুরুল ইসলাম কাহালু, বগুড়া
বগুড়ায় আবাদী জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। চলছে অনিয়মের মহোৎসব

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ফসলী জমি খননের যেন মহোৎসব চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও থামানো যাচ্ছে না অবৈধ মাটি কাটা, পুকুর খনন ও মাটি ভরাট। শস্যেও ভিতরই তাহলে ভূত এলাকাবাসী প্রশ্ন।

             কাহালু উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় কমপক্ষে ২ ডজন চিহিৃত মাটি ব্যবসায়ী, যারা বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ প্রভাবশালী নেতাদের ছত্র ছাযায় স্থানীয় প্রশাসনকে মেনেজ করে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রয় করে রাতা-রাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ না,ইতিমত বটবৃক্ষে পরিনত হয়েছে। গত ২০২৪ সালের আগষ্টে আওয়ামী শাসনের পতনের পর তারাই আবার রং ও দল পরিবর্তন করে একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে মাটির ব্যবসায় নেমেছে। তারা লাভবান হতে গিয়ে এলাকার হাজার হাজার একর ৩ ফসলি জমিতে পুকুর খনন,মাটি ভরাট করে এলাকার কৃষকদের সর্বনাশ করছে। শুধুকি তাই ? পুকুর খননের মাটি বিক্রয় করে ভরাটের জন্য তা পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামীণ রাস্তার ব্রীজ-কালভাট ভেঙ্গে ফেলাসহ রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। পাশা-পাশী ঐ মাটি দিয়ে অবাদে ভরাট করা হচ্ছে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশনের ড্রেন,কালভাট ব্রীজ ও নয়জলি,ফলে উপজেলার অর্ধশত মৌজায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়ে ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সঠিক সময়ে পানি নিস্কাশ না হতে পারায় বিপুল সম্ভাবনাময় ঐসব এলাকায় চাষ করা যাচ্ছেনা আলু ও সরিষাসহ মৌসুমী শাক-সবজি।
           এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত ১৫ বছরের উপজেলা প্রায় ৪ হাজার একর ৩ ফসলি কৃষি জমি হারিয়েছে কৃষক। ঐ সব জমিতে পুকুর খনন,কলকারখানা নির্মাণ ও কোথাও কোথাও অতি লাভের আশায় এক শ্রেনী দালল স্থানীয় ভাষায় ভূমি দস্যুরা ভরাট করে উচ্চ মুল্যে বিক্রয় করছেন কলকারখানা মালিকদের নিকট। এই ক্ষেত্রে তারা রাস্তার পার্শ্বের জমি পছন্দের তালিকায় প্রথম। ফলে রাস্তার দু’পার্শ্বে সরকারী (পানি নিস্কাশনের ড্রেন) নয়জলি গুলো ও ব্রীজ কালভাট বন্ধ করে ফেলেছে। 
          স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ মাটি খনন ও বিক্রেতাদের বিরোদ্ধে তৎপতা অব্যাহত ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও থামাতে পাছেনা ফসলি জমির পুকুর খনন ও মাটি কাটা। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে গভীর রাতে চলছে খনন ও ভরাট কাজ। ইতিমধ্যে এক্রিকিটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও কাহালু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর মেজবাহীজ্জুলাম চৌধুরী, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ (৭) ক ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে একাধিক অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীর জরিমানা করাসহ সরঞ্জামাদি জব্দ করেও থামছেনা ফসলি জমির মাটি কাটা। মাটি ব্যবসায়ীরা সাধারনত রাতের বেলায় মাটি খননের কাজ করছে। 
        কাহালু উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাশপিয়া তাসরিন জানান, উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সবসময় কঠোর ও তৎপর রয়েছে, প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যামান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে, অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 
               একটি সূত্রে জানাগেছে,ঐ মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত একশ্রেনী প্রশাসনের কর্মচারী। যারা নিয়মিত মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকেন। যার কারণেই কি প্রশাসনের ইচ্ছা থাকলেও থামানো যাচ্ছেনা অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব ? এমন প্রশ্ন স্থানীয় জনগণের। 
        
বগুড়ার কাহালু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ভাবেই মাটি খননের মহোৎসব চলছে। -নুরুল ইসলাম

 

উপরে