প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:৪৭

নোয়াখালীর দ্বীপে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূ ধর্ষণ, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীর দ্বীপে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূ ধর্ষণ, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ দিন পর ছয় জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত হাতিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।
মামলায় আসামি হিসেবে নাম এসেছে : আবদুর রহমান (৩২)— চানন্দী ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প, মো. মতিন (৩৫)— একই এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে, হেলাল উদ্দিন কেরানি (৪০)— হালিম ডুবাইরের ছেলে, মো. রুবেল (৩০)— আবুল কাশেমের ছেলে, এমরান হোসেন বা কালা এমরান (৩৫)— ৭ নম্বর ওয়ার্ড, বেলাল মাঝি (৪৮)— উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়।
তারা ভুক্তভোগীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রথম আসামি আবদুর রহমান ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
পরের দিন ভোরে একই ব্যক্তি আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং ভুক্তভোগীর শ্লীলতাহানি করে। এছাড়া ‘শাপলা কলি’ কর্মীর ঘর দেখানোর জন্য চাপ প্রয়োগ এবং ঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নোয়াখালী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড তিন জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে গঠন করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা।
ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক জানান, আদালতের নির্দেশে হাতিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে এবং মামলা নথি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

 

উপরে