প্রকাশিত : ১ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩৪

ধুনটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, আসামি স্ত্রী ও ছেলে

উপজেলা সংবাদদাতা, ধুনট, বগুড়াঃ
ধুনটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, আসামি স্ত্রী ও ছেলে

বগুড়ার ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী ও ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নাছিমা খাতুন নামে এক নারী ধুনট থানা-এ মামলাটি করেন। বাদী নাছিমা খাতুন ধুনট উপজেলার সদর ইউনিয়নের উল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চপল মাহমুদের স্ত্রী।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চপল মাহমুদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও পাশার স্ত্রী শারমিন সুলতানা দীপ্তি এবং তাদের ছেলে নাফিস ফয়সাল আকাশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে চপল মাহমুদ ধুনট শহর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশা, তার স্ত্রী ও ছেলে তার গতিরোধ করেন। সেখানে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে শনিবার রাতেই অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নির্যাতিত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিপি আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশা। তিনি দাবি করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে তার ছেলের সঙ্গে চপল মাহমুদের হাতাহাতি হয়। চপল মাহমুদই প্রথমে তার ছেলেকে মারধর করেন। ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সাজানো বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ আলম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই পরিবারের বাড়ি পাশাপাশি এবং ক্যারম খেলা নিয়ে তরুণদের মধ্যে বিরোধের জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এখন পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

উপরে