প্রকাশিত : ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১২

বগুড়ায় প্রথমবার গবাদিপ্রাণীর বীমা দাবির টাকা পেলেন খামারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় প্রথমবার গবাদিপ্রাণীর বীমা দাবির টাকা পেলেন খামারি

বগুড়ায় প্রথমবারের মতো গবাদিপ্রাণীর বীমা সুবিধা পেয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ গ্রহণ করেছেন এক ক্ষুদ্র খামারি। নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামের উম্মে সালমা নিজের পালিত গরু মারা যাওয়ার পর বীমা সুবিধার আওতায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি নতুন করে গরু কিনে পুনরায় খামার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার দোলা সিংড়া গ্রামে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উম্মে সালমার হাতে বীমার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের লক্ষ্যে উম্মে সালমা গবাদিপ্রাণী পালন শুরু করেন। পরে তিনি ব্র্যাক-এর মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির (বগুড়া-৪ অঞ্চল) সদস্য হন। ওই কর্মসূচির আওতায় তিনি তার পালিত গরুর জন্য ৩০ হাজার টাকার বীমা করেন। একটি কিস্তি পরিশোধের পর গত ৯ জানুয়ারি তার গরুটি মারা যায়।

বীমার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই গরুর মৃত্যুতে তিনি বিপাকে পড়লেও বিষয়টি ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তদন্তে তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে বীমা নীতিমালা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে ২৭ হাজার টাকার বীমা দাবি প্রদান করা হয়।

বীমা দাবির অর্থ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্পনা রানী রায়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নর্থ ওয়েস্ট ডিভিশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গোলাম রব্বানী, লাইভস্টক ইন্স্যুরেন্স ম্যানেজার তাসভীর আহমেদ, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নিলুফার ইয়াসমিন কেয়া, জেলা সমন্বয়ক বাবলী সুরাইয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গবাদিপ্রাণী বীমা কর্মসূচি ক্ষুদ্র খামারিদের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে খামারিরা হঠাৎ ক্ষতির মুখে পড়লেও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পান।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম বলেন, গবাদিপ্রাণী বীমা কার্যক্রম খামারিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। এতে ক্ষুদ্র খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পান এবং পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ পান। তিনি জানান, বগুড়া জেলায় প্রথমবারের মতো ব্র্যাকের মাধ্যমে গরুর বীমা দাবি পরিশোধের ঘটনা অন্য খামারিদের জন্যও উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উপরে