রংপুরে আলুর ফলন ভালো হয়েছে বাজারে দাম একেবারেই নেই হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিকে
আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক চাষিকে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই আলু বিক্রি করতে পারছেন মাত্র চার হাজার টাকার মতো। অনেক হাট-বাজারে ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আলু চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রংপুর সদর উপজেলার এক আলু চাষি বলেন, “এবার আলুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম একেবারেই নেই। খরচ তুলতেই পারছি না। যদি সরকার সহযোগিতা না করে তাহলে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”আরেক কৃষক জানান, বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে আলুর দাম কমিয়ে রাখছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সাময়িকভাবে দাম কম রয়েছে। কৃষকদের ধৈর্য ধরে আলু সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হিমাগারে সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কৃষকের নিজস্ব সংরক্ষণাগারেও আলু রাখা যেতে পারে। সময়ের ব্যবধানে বাজারে চাহিদা বাড়লে আলুর দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছর রংপুর জেলা থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭ শত মেট্রিক টন আলু নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর রফতানির পরিমাণ আরও বাড়ানো গেলে কৃষকরা আলু চাষে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকদের দাবি, বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারি নজরদারি বাড়ানো এবং আলু রফতানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। এতে একদিকে যেমন কৃষকের লোকসান কমবে, অন্যদিকে দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
