প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৩৫

তেলের সংকটে শেরপুরে পাম্পে ১ কিঃমি দীর্ঘ লাইন, খোলাবাজারে বেড়েছে লিটারে ৫০ টাকা

এনামুল হক, বগুড়াঃ
তেলের সংকটে শেরপুরে পাম্পে ১ কিঃমি দীর্ঘ লাইন, খোলাবাজারে বেড়েছে লিটারে ৫০ টাকা

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেক চালককে তেল নিতে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের হামছায়াপুর এলাকায় অবস্থিত স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের লাইন দেখা যায়। তেলের সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা।

উপজেলায় মোট ১০টি তেলের পাম্প রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি পাম্পে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে সাত হাজার লিটার। আবার সপ্তাহে দুদিন তেলের সরবরাহ মাঝে মাঝে মিস হওয়ায় সংকট আরও বেড়ে যাচ্ছে। শেরপুরে স্থায়ী যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় জ্বালানির ঘাটতি এখানে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ট্রাকসহ বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১২০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংকটের কারণে অনেক চালককে মাত্র ৭০ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত এক সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতি চলছে, যদিও এর আগে সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।

ট্রাকচালক মো. সাইদুল বলেন, “শেরপুরে তেলের খুবই সংকট। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০ হাজার টাকার তেল প্রয়োজন, সেখানে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার তেল। আবার এই তেল নিতে এক থেকে দুই দিন সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সরকার বরাদ্দ বাড়ালে সমস্যা কমতে পারে।”

আরেক চালক ফরহাদ বলেন, “আমাদের দরকার ফুল ট্যাংকি তেল। কিন্তু দুই দিন অপেক্ষা করার পরও পাচ্ছি মাত্র সাত হাজার টাকার তেল।”

চালক জীবন হোসেনসহ আরও কয়েকজন জানান, উপজেলার বাইরে অনেক পাম্প শেরপুরের গাড়িকে তেল দিতে চায় না। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে প্রতি লিটার তেল প্রায় ৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নিজ এলাকাতেই চাহিদার অর্ধেক তেল পাওয়া যাচ্ছে।

হামছায়াপুরের স্বাক্ষর ফিলিং স্টেশনের সিনিয়র ক্যাশিয়ার আবু জাফর বলেন, “ডিপো থেকে আমাদের চাহিদার অর্ধেক তেল দেওয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দিন বলা হয় আজ বাজেট নেই, তাই সরবরাহ দেওয়া যাবে না। স্থানীয় গাড়ির পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলোকেও অল্প কিছু তেল দিতে হয়। কিন্তু এতে চালকদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।” তিনি জানান, বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন ২০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে এবং নতুন সরবরাহ না এলে আর দুই দিন মজুত থাকবে।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে রেশনিং পদ্ধতির আওতায় জ্বালানি তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২৫ শতাংশ কমিয়ে তেল সরবরাহ করা হতো, এখন তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে বলে বুধবার এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

উপরে