প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:৪২

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ থাকা ৭ জন রোগী শনাক্ত

জলাল উদ্দিন,রংপুরঃ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ থাকা ৭ জন রোগী শনাক্ত

এ সময়ের মধ্যে সাতজনের হাম ও চারজনের রুবেলায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ থাকা আরও ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম। এখন পর্যন্ত সাতজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর ১১৬ জনের উপসর্গ থাকায় সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে আসা প্রত্যেক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ৩ জন ও পঞ্চগড়ে ৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও, গত ৩০ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগের আট জেলায় হামের উপসর্গ থাকা ৯৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও ৩০ জন। এর মধ্যে লালমনিরহাটে তিনজন, দিনাজপুরে তিন, গাইবান্ধায় তিন, ঠাকুরগাঁওয়ে সাত এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ, এই তিন মাসে বিভাগের আট জেলায় মোট ১১৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ২৫ জন, গাইবান্ধায় ২১ এবং রংপুর জেলায় ১৯ জন রয়েছে। এ ছাড়া নীলফামারীতে ১৬ জন, কুড়িগ্রামে ১২, পঞ্চগড়ে ১০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ এবং লালমনিরহাটে ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজনের হাম ও চারজনের রুবেলা নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও সংক্রমণ রোধে হাসপাতালগুলোতে আলাদা করে আইসোলেশন কক্ষে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে সরেজমিন দেখা যায়, এ বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে ১২০ শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে সংক্রমণ এড়াতে শিশু বিভাগের পাশের একটি কক্ষকে হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন হাম কর্নার করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়ায় আরেকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, আসন অনুপাতে দ্বিগুণ রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তার ওপর হাম সংক্রামক ব্যাধি হওয়ায় আইসোলেশন প্রয়োজন হচ্ছে। এতে অন্য রোগীদের গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে। রমেকের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আয়েশা সুলতানা বলেন, হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাম কর্নারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে নতুন আরও রোগী ভর্তি হওয়ায় নতুন করে আরেকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, রংপুর বিভাগের দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন কর্নার চালু করা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের এসব কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। যেসব শিশু এখনও হামের টিকা পায়নি, তাদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হামের পরিস্থিতি ভাল রয়েছে। আশা করছি আক্রান্তদের চিকিৎসার কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।

 

উপরে