কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডে বরাদ্দ আরও বাড়বে : প্রধানমন্ত্রী
আগামীতে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান|
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন শেষে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি|
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে চার কোটি পরিবার রয়েছে, ধীরে ধীরে আমরা এই পরিবারের যারা মায়েরা আছে, বোনেরা আছে তাদেরকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এক এক করে পৌঁছে দেবো| সেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা ২৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে মায়েদের হাতে তুলে দেবো যাতে করে সেই মায়েরা পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া বলেন, ¯^াস্থ্য বলেন সবকিছু ঠিকভাবে যত্ন নিতে পারে| তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে মায়েরা ছোট ছোট ব্যবসা বাণিজ্য করার মাধ্যমে ¯^াবল¤^ী হয়ে গড়ে উঠতে পারে| কারণ মা যদি শিক্ষিত হয় পরিবার শিক্ষিত হয় মা যদি ¯^াবল¤^ী হয় একই সাথে পরিবারের সব সদস্য ধীরে ধীরে ¯^াবল¤^ী হয়|
কৃষক কার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার এখানে এই যে স্টেজের মধ্যে এক কৃষক ভাই বসে আছেন উনার বক্তব্যে উনি কৃষক কার্ডের কথা বলেছেন, শুনেছেন আপনারা| এই কৃষক কার্ডের কাজও কিন্তু আমরা শুরু করেছি| ফ্যামিলি কার্ডের কাজ যেমন আমরা শুরু করেছি আল্লাহর রহমতে কৃষক কার্ডের কাজও আমরা ধীরে ধীরে শুরু করেছি| হতে পারে এখন পর্যন্ত কেউ বলতে পারে যে আপনারা তো অল্প দিয়েছেন| হ্যাঁ আমরা কাজটি শুরু করেছি|
বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই যে সামনে বাজেট আছে এই বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো| কারণ বর্তমানে যেই বাজেট চলছে এটি তো বিএনপি সরকারের বাজেট না| এটি বিএনপি সরকারের আগে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল তাদের করে দেয়া বাজেট এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের কোনো টাকা দেয়া ছিল না| সেই বাজেটের মধ্যে কৃষক কার্ডের জন্য কোনো টাকা দেয়া ছিল না| সেইজন্য ইনশাল্লাহ এবার আপনাদের সরকার, বিএনপি সরকার বাজেট ˆতরি করছে এবং সেই বাজেটের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে, কৃষক কার্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে|
তিনি আরও বলেন, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে| আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে|
খাল খনন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল যদি খনন না করি কৃষক ভাইয়েরা কি পানি পাবে? পাবে না| খাল খনন করলে কৃষক ভাইয়েরা পানি পাবে, ঠিকভাবে আমরা যদি কাজ করি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত| এই ৪০ কোটি হাত যদি নেমে আসে, এই ৪০ কোটি হাত যদি একসাথে কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হব|
তিনি বলেন, প্রিয় ভাই ও বোনেরা আসুন আজ থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, দেশ গড়া, রাষ্ট্র পুনর্গঠন| এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা| আর আমরা যেরকম নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, বিএনপি যে সব প্রতিশ্রুতি জনগণকে দেয় দেশের মানুষের সামনে দেয় বিএনপি দেশ পরিচালনা করার সময় আস্তে আস্তে সবগুলো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে| কাজেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব|
খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনঃখননের এই অনুষ্ঠান| আসুন আমরা সকলে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, কী প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা|
“আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন শরিফে বলে দিয়েছেন, ‘যে জাতি নিজেদেরকে সাহায্য করে আমি তাকে সাহায্য করি’|
“বিএনপির শক্তির উৎস কারা? বিএনপি শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ| সেজন্যই আমরা বলি, সেজন্যই আমরা যারা বিএনপি করি, সেজন্যই আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি— জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস|
“আপনাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি| আপনাদের সমর্থন আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবে, আপনাদের সমর্থন যতক্ষণ থাকবে আমাদের দেশ করার কাজ ইনশল্লাহ চলতে থাকবে|”
শনিবার ঢাকা থেকে সড়ক পথে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন|
ফলক উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী| পরে খালের তীরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি|
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোমিনুল হক, জেলা সদস্য সচিব সলিম উল্যা সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া, সহসভাপতি আবু ইউসুফ রুপম|
১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন| ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তারই ছেলে তারেক রহমান|
