প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ ০১:২৫

কদমতলীর তিন খুন: পরিবারের ক্ষোভ থেকে মা–বাবা–বোন হত্যার চাঞ্চল্যকর বিবরণ অভিযোগপত্রে

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ
কদমতলীর তিন খুন: পরিবারের ক্ষোভ থেকে মা–বাবা–বোন হত্যার চাঞ্চল্যকর বিবরণ অভিযোগপত্রে

ঢাকার কদমতলীতে সংঘটিত আলোচিত তিন খুনের মামলায় বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুনকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অধিকতর তদন্তেও পূর্ববর্তী তদন্তের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ছোট বোনের সঙ্গে স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক এবং তা জেনেও বাবা–মায়ের নিষ্ক্রিয়তায় সৃষ্ট ‘তীব্র ক্ষোভ’ থেকেই মা, বাবা ও ছোট বোনকে একাই হত্যা করেন মুন। একই ঘটনায় তার স্বামী শফিকুল ইসলাম অরণ্যর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৮ জুন রাতে কদমতলীর বাসায় খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করা হয়। পরে মা, বাবা ও বোনকে আলাদা করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর মুন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পরদিন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা জানান।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ২০২১ সালের ২০ জুন মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২২ আগস্ট প্রথমে একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বাদীর আপত্তির পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিল সিআইডি আবারও মুনকে একমাত্র আসামি করে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, পারিবারিক নানা বিরোধ, বিশেষ করে স্বামীর সঙ্গে ছোট বোনের সম্পর্ক নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব থেকেই মুনের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তবে মামলার বাদী ও নিহতদের স্বজনরা তদন্তের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং পূর্ণাঙ্গ বিচার নিশ্চিত হয়নি। তারা ন্যায়বিচার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় এখন আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

উপরে