প্রকাশিত : ১৭ মে, ২০২৬ ০১:২৯
বগুড়ায় মাইকিং করে বিপন্ন প্রজাতির ১১০ কেজি বাঘাড় মাছ বিক্রি; প্রশাসনের দায়িত্বে ধোঁয়াশা
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১০ কেজি ওজনের বাঘাইর মাছ। ছবি- সংগৃহীত
বগুড়া শহরে ১১০ কেজি ওজনের সংরক্ষিত বাঘাড় মাছ প্রকাশ্যে মাইকিং করে বিক্রির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মহাবিপন্ন ও আইন দ্বারা সুরক্ষিত এ প্রজাতির মাছ শহরজুড়ে প্রচার করে বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
পরে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে দায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি, যা আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা ও সরকারি সমন্বয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১২ মে) বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ১১০ কেজি ওজনের একটি বাঘাড় মাছ বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশবাদী, সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা প্রশ্ন তোলেন, সংরক্ষিত প্রজাতির মাছ প্রকাশ্যে বিক্রির প্রচার চললেও প্রশাসন নীরব কেন।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ বগুড়া মোঃ মতলুবুর রহমান বলেন, বাঘাড় মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে প্রকাশ্যে মাইকিংয়ের বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে তিনি জানান, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব জেলা মৎস্য কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুল হাছান-এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, বাঘাড় মাছের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বন বিভাগ। সংশোধিত আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই এবং কোনো সরকারি চিঠিও হাতে পাননি।
বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বাঘাড় মাছ সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। আইন ভঙ্গ করে এ মাছ ধরা, বিক্রি বা পরিবহন করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বে অস্পষ্টতা, নজরদারির দুর্বলতা এবং আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগে অসাধু চক্র সংরক্ষিত প্রজাতির প্রাণী প্রকাশ্যে বাজারজাত করার সাহস পাচ্ছে। এতে দেশীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘাড় মাছসহ দেশীয় বড় প্রজাতির মাছ রক্ষায় শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কঠোর বাস্তবায়ন, দপ্তরগুলোর সমন্বয় এবং জবাবদিহিমূলক তদারকি। না হলে ভবিষ্যতে এসব প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
