প্রকাশিত : ৪ জুন, ২০২৬ ০০:৩২

রংপুরে জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন অংশের ৪০ ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবিতে স্মারকলিপি

জালাল উদ্দিন, রংপুর ঃ
রংপুরে জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন অংশের ৪০ ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবিতে স্মারকলিপি

রংপুর জেলার উদ্যোগে মিছিল সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালিত হয় গতকাল ৩ জুন কৃষিখাতে জাতীয় বাজেটের উন্নয়ন অংশের ৪০ ভাগ কৃষিখাতে বরাদ্দের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন সংগঠনের জেলা কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক  সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমরেড আহসানুল আরেফিন তিতু, সংগঠক ফুলবাবু,আউয়াল প্রমূখ। নেতৃবৃন্দ বলেন কৃষি খাতে প্রধান সমস্যা  কৃষি উপকরণ ও ফসলের বাজার পুরোপুরি ব্যবসায়ি, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। মজুতদার, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ফসলের বাজার। এই সিন্ডিকেট চক্র উচ্চ মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে এবং সর্বনিম্ন মূল্যে ফসল বিক্রি করতে কৃষককে বাধ্য করে। ফলে প্রতিনিয়ত বেশি দামে উপকরণ কিনে কম দামে ফসল বিক্রি করে কৃষকরা লোকসান করে সর্বশান্ত হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কৃষকরা আলু,ধান,পেঁয়াজে লোকসান করছে। তার উপর বন্যা খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আছেই। দাম না পাওয়ায় সর্বশান্ত হয়ে ইতিমধ্যে কৃষকরা আত্মহত্যা করেছে। ধানের দামের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। সরকার ২ লক্ষ মেট্রিক ধান এবং ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কেনার ঘোষণা দিয়েছে। অথচ কৃষকরা চাল উৎপাদন করেনা। যে মিল মালিকদের ফসল উৎপাদনের সাথে কোন সম্পর্কই নেই তারাই পাচ্ছে ফসলের লাভ। খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে ঐ ২ লক্ষ মেট্রিক টন ধানও কৃষক সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারে না। বিক্রি করে মধ্যস্বত্বভেগীরা। সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করেছে মণ প্রতি ১৪৪০ টাকা কিন্তু বাজারে কৃষক ধান বিক্রি করছে ৭০০-৮০০ টাকা মণ। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচও উঠছে না। এক্ষেত্রে আমরা দাবি করছি হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরকারিভাবে ৫০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে কিনতে হবে। আমরা অতীতেও লক্ষ্য করেছি প্রত্যেক সরকার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পক্ষে বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কারণ এই ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বেই সরকারগুলো পরিচালিত হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন ক্ষেতমজুররা কৃষির অপরিহার্য অংশ। কিন্তু জমিতে তিন মাসের বেশি কাজ না থাকায় বাকী ৯ মাস তাদের নিদারুণ কষ্ট করে এনজিওর কাছে ঋণ নিয়ে চলতে হয়। এদের জন্য দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে ১২০ দিনের কর্মসৃজন চালু করলে ক্ষেতমজুররা কোনরকমে বাঁচতে পারতো। এছাড়া বয়স হয়ে গেলে এই গরীব মজুরদের দায়িত্ব কেউ নেয়না। তাই তাদের জন্য ৫০০০ টাকা ভাতা চালু এবং আর্মিরেটে রেশন চালু করা উচিৎ। তাই কৃষক ক্ষেতমজুরদের রক্ষায়, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন করতে কৃষিখাতে ৪০ ভাগ বরাদ্দ দরকার। এছাড়া দেশীয় কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে আমেরিকার সাথে যে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে। সমাবেশ শেষে এসকল দাবিতে  বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ও কৃষক সংগঠন রংপুর জেলার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

উপরে