প্রকাশিত : ৩ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৭

মন্দির ইস্যুতে সম্প্রীতি বিঘ্নের আশঙ্কা: সংবাদ সম্মেলনে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্যের প্রতিবাদ তিন সংগঠনের

সিরাজুল ইসলাম রতন, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধাঃ
মন্দির ইস্যুতে সম্প্রীতি বিঘ্নের আশঙ্কা: সংবাদ সম্মেলনে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্যের প্রতিবাদ তিন সংগঠনের
২ জুলাই বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাইবান্ধা জেলা কমিটির যৌথ উদ্যোগে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি- সংবাদদাতা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের গাইবান্ধা জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিন সংগঠনের নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরটি প্রায় দুই শতাব্দী আগে ৭৬ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস স্থানীয় সনাতনীদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা না করে ৭৬ শতাংশ দেবোত্তর জায়গায় নিজের ইচ্ছামতো মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। প্রতি বছর যে স্থানে পূজা হতো, সেখান থেকে সরিয়ে উত্তর সীমানায় মন্দির স্থাপন করায় স্থানীয় সনাতনীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।"

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, "পরিবেশ শান্ত রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং তিন সংগঠনের নেতারা একাধিকবার শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাঁকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, ফেসবুক কমেন্ট ও লাইভে এসে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি থেকে সরে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতারাও একই আহ্বান জানান। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করে পূর্বের মতোই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।"

তারা আরও বলেন, "বিপুল কুমার দাস, সুজন প্রসাদ ও চঞ্চল সাহার বক্তব্যকে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস কটাক্ষ করেন এবং ফেসবুক পেজ ও লাইভে এসে সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহার বিরুদ্ধেও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"

সংবাদ সম্মেলনে ১৫ জুন পলাশবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ভগবান শ্রী রামের প্রতিকৃতির প্রতি অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ তুলে তার নিন্দা জানানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "প্রায় দুই শত বছরের প্রাচীন রাধাগোবিন্দ ও কালী মন্দিরটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় সনাতনীদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে পূজা-পার্বণ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক।"

শেষে নেতারা বলেন, "এখনও শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ফেসবুক লাইভে এসে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও আচরণ করছেন। আমরা মনে করছি, এর ফলে গাইবান্ধাসহ সারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন বিঘ্নিত হতে পারে। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিকসহ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।"

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি বিরতি রঞ্জন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি রনজিৎ বক্সী সূর্য্য ও সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক বিপুল কুমার দাস ও সদস্য সচিব বিষ্ণু কুমার দাসসহ তিন সংগঠনের নেতারা।

তবে এ বিষয়ে শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উপরে