প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬ ০১:০৮

প্রেমের টানে ছুটে এলেন চীনা যুবক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চাঞ্চল্য

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্কঃ
প্রেমের টানে ছুটে এলেন চীনা যুবক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চাঞ্চল্য

প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চীন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এসে এক বাংলাদেশি তরুণীকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন এক চীনা নাগরিক। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণা ও মানবপাচারের অভিযোগ বাড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতার কথাও উঠে এসেছে।

জানা গেছে, কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে কলেজছাত্রী আয়েশা সুলতানার (২১) সঙ্গে চীনের হেনান প্রদেশের দেংঝৌ শহরের বাসিন্দা সং হানজাওয়ের (৪০) পরিচয় হয় একটি চীনা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন অনলাইনে যোগাযোগের পর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সং হানজাও বাংলাদেশে এসে গত মাসের ১৪ তারিখে এফিডেভিটের মাধ্যমে আয়েশাকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।

আয়েশা সুলতানা বলেন, শুরু থেকেই দুই পরিবার তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে অবগত ছিল। পারিবারিক সম্মতিতেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এ সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রতারণা বা জোরজবরদস্তির ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে তাঁর স্বামী বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।

আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করেই তিনি এ বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সং হানজাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন। এজন্য তাঁকে পরিবারের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন ডেটিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের পরিচয়, বিয়ের আইনগত বৈধতা, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য প্রতারণা, মানবপাচার বা অন্য কোনো ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

পরিবারের দাবি, এটি পারিবারিক সম্মতিতে সম্পন্ন হওয়া একটি বৈধ বিয়ে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

উপরে