প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১৫

রেলওয়ের স্থাপনা উচ্ছেদে হামলা-ভাঙচুর, সোনাতলা রেলস্টেশন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলওয়ের স্থাপনা উচ্ছেদে হামলা-ভাঙচুর, সোনাতলা রেলস্টেশন বন্ধ

বগুড়ার সোনাতলায় রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সোনাতলা রেলস্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সোনাতলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারসহ অন্তত সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ সময় টিকিট বিক্রির কম্পিউটার ভাঙচুর এবং এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

আহতরা হলেন সোনাতলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম, চুক্তিভিত্তিক স্টেশনমাস্টার আব্দুল মাজেদ, গ্রেড-২ বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ, পয়েন্টসম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও সোয়াইব হোসেন, পোর্টার দুলাল হোসেন এবং রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ। তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা গেছে, সোনাতলা রেলস্টেশনের উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় দুই দিন ধরে একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে এক শ্রমিক স্টেশনমাস্টারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান স্টেশনমাস্টার।

এর পরদিন বুধবার দুপুরে বগুড়া রেলওয়ে অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এবং রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্মাণাধীন একটি টয়লেট ও রেলগেট সংলগ্ন কয়েকটি অবৈধ ফলের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে কর্মকর্তারা স্টেশনমাস্টারের কক্ষে অবস্থান নেন।

স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনে ঢুকে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। পরে বুকিং কাউন্টারে ঢুকে টিকিট বিক্রির কম্পিউটার ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদকেও মারধর করে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন বলেন, টয়লেট নির্মাণের কথা বলে স্থাপনা তৈরি করে পরে সেটি দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থাপনা উচ্ছেদের পর সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন এসে কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার পর বিষয়টি লালমনিরহাট কন্ট্রোল রুমে জানানো হলে সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সোনাতলা রেলস্টেশনের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আকস্মিকভাবে স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ঘটনাস্থলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোনো নোটিশ ছাড়া সেটি উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্টেশনমাস্টার আগে লিজ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ চেয়েছিলেন।

তবে সোনাতলা পৌরসভার প্রকৌশলী শাহিন বলেন, ওই নির্মাণকাজ পৌরসভার কোনো বরাদ্দের অধীনে ছিল না।

অভিযোগের বিষয়ে সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তিনি অল্প সময়ের জন্য সেখানে ছিলেন, পরে কী হয়েছে তা তাঁর জানা নেই।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।

উপরে