প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০১:০২

২ হাজার ভুয়া জন্মনিবন্ধন, বছর পেরোলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

সিরাজুল ইসলাম রতন, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা
২ হাজার ভুয়া জন্মনিবন্ধন, বছর পেরোলেও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তির নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের এক বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতকাপা ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে। তবে এসব নিবন্ধনের অধিকাংশ ব্যক্তির পরিচয় ও বাস্তব অস্তিত্ব স্থানীয়ভাবে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের নাম ও অভিভাবকদের নাম দেখে স্থানীয়দের ধারণা, নিবন্ধনগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গাদের নামে ভুয়া জন্মনিবন্ধনও থাকতে পারে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে। পরে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-ইয়াসার রহমান তাপাদারকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্য করা হয়।

তদন্ত কমিটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জন্মনিবন্ধনে থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নিবন্ধন তালিকায় থাকা অনেক ব্যক্তির কাউকেই স্থানীয়রা শনাক্ত করতে পারেননি। তাদের নাম-পরিচয় দেখে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-ইয়াসার রহমান তাপাদার বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে আমি সাতটি জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করেছি। কিন্তু এসব নিবন্ধনে থাকা কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

ভুয়া জন্মনিবন্ধনের অভিযোগের বিষয়ে বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা বলেন, ‘আমি কোনো ভুয়া জন্মনিবন্ধনে স্বাক্ষর করিনি। তবে এসব ভুয়া নিবন্ধন কীভাবে অনলাইনে এন্ট্রি হলো, সেটিও জানি না।’

এদিকে বিপুলসংখ্যক ভুয়া জন্মনিবন্ধনের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক জন্মনিবন্ধন কীভাবে করা হয়েছে, সে বিষয়ে কেউই দায় নিতে রাজি নন।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

উপরে