প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১২
রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, শোকজের পরও নেই পদক্ষেপ
রায়গঞ্জ সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতাঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ যেন থামছেই না। প্রসূতি সেবায় গাফিলতির অভিযোগে দুই মিডওয়াইফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
এবার প্রসবব্যথা নিয়ে ভর্তি এক নারী সন্তান প্রসবের পর গুরুতর রক্তক্ষরণে সংকটাপন্ন হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন (২৪) রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ঝাপড়া মহল্লার মো. আসলামের স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাঁর মা মোছা. নার্গিস বেগম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট রাত আটটার দিকে তীব্র প্রসবব্যথা নিয়ে রাবেয়াকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা না করে তাঁকে হাঁটাহাঁটি করতে বলা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসপাতালে ছিলেন না এবং প্রসূতিকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।
পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সন্তান প্রসব করেন রাবেয়া। পরিবারের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের সময় তাঁর জরায়ু ও পায়ুপথের মধ্যবর্তী অংশ ছিঁড়ে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। প্রসূতি ও নবজাতকের অবস্থাও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা জরুরি সেবা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের আরও অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা নার্সরা প্রসূতির চিকিৎসায় সহযোগিতা না করে মেঝেতে পড়ে থাকা রক্ত পরিষ্কার করার জন্য তাঁদের চাপ দেন। পরে রাবেয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন। পরিবারের দাবি, প্রসবের সময় জটিলতার কারণে তাঁকে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসবব্যথা নিয়ে আসা আরেক নারীকে সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পথেই তাঁর সন্তান প্রসব হয়। ওই ঘটনায় দুই মিডওয়াইফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
একই ধরনের অভিযোগের পর শোকজ হলেও ফের অভিযোগ ওঠায় হাসপাতালের তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর স্বজনদের প্রশ্ন, অভিযোগ ও শোকজের পরও যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
এদিকে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ করেছেন একাধিক স্টাফ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের অভিযোগ, প.প. কর্মকর্তা আ.ফ.ম. ওবায়দুল ইসলাম স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সামাল দিয়ে আসছেন। ফলে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প.প. কর্মকর্তা আ.ফ.ম. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করে অনিয়ম চালানোর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় বারবার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
