‘বিয়ে না করলে যাব না’, এবার প্রেমিকের বাড়ির সামনে মেয়েকে নিয়ে অবস্থানে গৃহবধূ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে প্রেমিক দাবি করে এক তরুণের বাড়ির সামনে মেয়েকে নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এক গৃহবধূ (২৫)। তাঁর সঙ্গে রয়েছে চার বছরের মেয়ে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তাঁকে ওই বাড়ির ফটকের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের সিয়াম (২৬) নামের ওই তরুণের বাড়ির ফটকের সামনে অবস্থান নেন ওই গৃহবধূ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর সিয়াম তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সিয়াম অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে আসেন।
ওই গৃহবধূর ভাষ্য, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সিয়াম নিয়মিত তাঁর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। একদিন এক প্রতিবেশী বিষয়টি দেখে ফেললে সিয়াম তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান। এরপরও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
ওই গৃহবধূ আগে স্বামীর সঙ্গে একই এলাকায় বসবাস করতেন। পরে তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে তাঁকে রেখে রংপুরে চলে যান। এর মধ্যে সিয়ামের বিয়ের খবর পেয়ে তিনি তাঁর বাড়িতে চলে আসেন।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, সিয়াম পাশের গ্রামে এক তরুণীকে বিয়ে করতে গেছে। এ খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১০টার দিকে তার বাড়িতে এসেছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।
স্থানীয় লোকজন জানান, ওই গৃহবধূ বাড়ির সামনে অবস্থান নেওয়ার পর সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন। তবে সিয়ামকে বিয়ে ছাড়া কোনো সমাধান মানতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।
এ বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সিয়ামের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র ওই গৃহবধূকে ব্যবহার করে সিয়ামের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
মামুদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সিয়াম গতকাল রাতে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ওই গৃহবধূ সিয়ামকে ছাড়া কোনো কিছুই মানবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর অভিভাবকদের আসতে বলা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
